ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দ্বিতীয় বিয়ে: প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, হাইকোর্টের রায় নিয়ে ভুল তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

হাইকোর্ট ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ বহাল রাখার রায় দেওয়ায় বহুবিবাহের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলকই থাকছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে এর স্পষ্টীকরণ করেছেন। কোনো পুরুষ চাইলেই যেনতেনভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না, এমনকি প্রথম স্ত্রীর মৌখিক অনুমতিতেও নয়। এজন্য তাকে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে এ সংক্রান্ত সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন, হাইকোর্ট এমন কোনো রায় দেননি যেখানে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে সহজ হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিয়ে সংক্রান্ত একটি রিটের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমগুলো ‘পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা আদালত অবমাননার শামিল। হাইকোর্ট এমন কোনো রায় দেননি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও হাইকোর্টের রায় ও দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিমত, হাইকোর্টের রায়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পারিবারিক জীবন ও অধিকারের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রায়ে রিট খারিজ হয়ে যাওয়ার কারণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশটি হুবহু প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে বা বহুবিবাহের বিষয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬(১) ধারায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার বর্তমান স্ত্রীর বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। এই ধরনের অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হবে না।

আইনের একই ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দপ্তরে দাখিল করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের বিষয়ে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তার উল্লেখ বাধ্যতামূলক।

সালিশি কাউন্সিলে আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে একই ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহকে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে করলে, যুক্তিযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে।

৪ নম্বর উপধারায় আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিল দরখাস্ত নিষ্পত্তির কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে এবং তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে, যা কোনো আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

দ্বিতীয় বিয়ে: প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক, হাইকোর্টের রায় নিয়ে ভুল তথ্যে বিস্ময় প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

হাইকোর্ট ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ বহাল রাখার রায় দেওয়ায় বহুবিবাহের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলকই থাকছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে এর স্পষ্টীকরণ করেছেন। কোনো পুরুষ চাইলেই যেনতেনভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না, এমনকি প্রথম স্ত্রীর মৌখিক অনুমতিতেও নয়। এজন্য তাকে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে এ সংক্রান্ত সালিশি কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে জানিয়েছেন, হাইকোর্ট এমন কোনো রায় দেননি যেখানে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে সহজ হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বিয়ে সংক্রান্ত একটি রিটের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমগুলো ‘পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা আদালত অবমাননার শামিল। হাইকোর্ট এমন কোনো রায় দেননি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও হাইকোর্টের রায় ও দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিমত, হাইকোর্টের রায়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পারিবারিক জীবন ও অধিকারের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। রায়ে রিট খারিজ হয়ে যাওয়ার কারণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশটি হুবহু প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে বা বহুবিবাহের বিষয়ে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬(১) ধারায় সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার বর্তমান স্ত্রীর বিবাহ বলবৎ থাকাবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। এই ধরনের অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রিকরণ) আইনের অধীনে নিবন্ধিত হবে না।

আইনের একই ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ১ নম্বর উপধারা অনুযায়ী অনুমতির দরখাস্ত নির্ধারিত ফিসহ চেয়ারম্যানের নিকট নির্দিষ্ট দপ্তরে দাখিল করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণসমূহ এবং এই বিবাহের বিষয়ে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তার উল্লেখ বাধ্যতামূলক।

সালিশি কাউন্সিলে আবেদন করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে একই ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দরখাস্ত গ্রহণ করার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করতে বলবেন। উক্তরূপে গঠিত সালিশি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিবাহকে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে করলে, যুক্তিযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে প্রার্থিত আবেদন মঞ্জুর করতে পারে।

৪ নম্বর উপধারায় আরও বলা হয়েছে, সালিশি কাউন্সিল দরখাস্ত নিষ্পত্তির কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের নিকট পুনর্বিবেচনার জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে পারে এবং তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে, যা কোনো আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।