ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

রাজধানীর স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল: মামলা দায়ের, পলাতক প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক শিশুকে নিষ্ঠুরভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক জনরোষ তৈরি হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া চার মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন এবং শাসনের অজুহাতে তাকে দফায় দফায় মারধর করছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি শিশুটিকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখালে সে আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্ত নারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং সহযোগী ব্যক্তিটি স্কুলের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত পবিত্র কুমার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরে। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, শিশু অধিকার আইনে করা ওই মামলায় প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপককে আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে শারমিন একাডেমি নামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অমানবিক আচরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনরা বলছেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুলগুলোতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

রাজধানীর স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল: মামলা দায়ের, পলাতক প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপক

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক শিশুকে নিষ্ঠুরভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক জনরোষ তৈরি হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া চার মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন এবং শাসনের অজুহাতে তাকে দফায় দফায় মারধর করছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি শিশুটিকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখালে সে আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্ত নারী প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান এবং সহযোগী ব্যক্তিটি স্কুলের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত পবিত্র কুমার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জানুয়ারি দুপুরে। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার শিশুটির মা বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান জানান, শিশু অধিকার আইনে করা ওই মামলায় প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপককে আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে শারমিন একাডেমি নামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অমানবিক আচরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনরা বলছেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুলগুলোতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।