ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিউর রহমানের পরিবার এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও স্বামী হত্যার বিচার না পাওয়ায় এবং যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাদির স্ত্রী। সম্প্রতি এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
২০২২ সালের মার্চ মাসে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ চলাকালে অলভিয়া বন্দরে নোঙর করে থাকা অবস্থায় রকেট হামলার শিকার হয় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’। ওই হামলায় জাহাজে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার হাদিউর রহমান নিহত হন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি কেবল তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকেই হারায়নি, বরং এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন নিহতের পরিবার। হাদির স্ত্রী তার বক্তব্যে অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে বলেন, “দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও আমার স্বামী হত্যার কোনো সুষ্ঠু বিচার বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। এখন দেশে নতুন সরকার এসেছে, যারা ন্যায়বিচারের কথা বলছে। আমি ড. ইউনূস সাহেবের কাছে জানতে চাই, আমার স্বামী হত্যার বিচার কোথায়? আমরা কি কোনোদিন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ বা বিচার পাবো না?”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে হাদিউর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গিয়ে বিদেশের মাটিতে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগের পর রাষ্ট্র যেভাবে পাশে দাঁড়ানোর কথা ছিল, তাতে ঘাটতি রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়, তবে তার স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা এবং দোষীদের চিহ্নিত করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, হাদিউর রহমানের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে শোকাতুর পরিবারটি কেবল আর্থিক সহযোগিতাই নয়, বরং এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আকুল আবেদন, এই মানবিক বিষয়টি যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
















