ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

দ্বৈত ব্যালট ও অধিক প্রার্থীর কারণে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গণনায় অধিক সময় লাগার সম্ভাবনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ভিন্ন ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে এবং একইসঙ্গে সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপুল সংখ্যক প্রার্থী। এই দুটি বিষয় ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবার প্রবাসী এবং অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট এবং অধিক সংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট গণনার সময়কে বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণস্বরূপ, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে যেখানে ৩ হাজার ভোটার থাকতে পারে, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের চাপ ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি হতে পারে, যা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহের বিষয়ে সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ৮৩টি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই সংখ্যা ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে উন্নীত হতে পারে। এছাড়া, কমনওয়েলথ থেকে ১০ জন এবং তুরস্ক থেকে ৯ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের সুবিধার্থে ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে, জ্যেষ্ঠ সচিব স্পষ্ট করেছেন যে মোবাইল ব্যাংকিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর পরিবর্তে, লেনদেনের ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। একই নীতি আই-ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ভোটারদের তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন সচিব। তিনি উল্লেখ করেন যে মিরপুরে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ সংক্রান্ত যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে ভোটারদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় সচিব বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তবে, কোনো প্রার্থী যদি তথ্য গোপন করে নির্বাচন করেন এবং পরবর্তীতে তা প্রমাণিত হয়, তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) নতুন ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) ভলান্টিয়ার কাজ করবেন। আগামী রোববার তাদের কমান্ড স্ট্রাকচার ও ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

দ্বৈত ব্যালট ও অধিক প্রার্থীর কারণে জাতীয় নির্বাচনে ভোট গণনায় অধিক সময় লাগার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১০:১২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ভিন্ন ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে এবং একইসঙ্গে সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপুল সংখ্যক প্রার্থী। এই দুটি বিষয় ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এবার প্রবাসী এবং অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট এবং অধিক সংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতি ভোট গণনার সময়কে বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণস্বরূপ, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে যেখানে ৩ হাজার ভোটার থাকতে পারে, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের চাপ ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি হতে পারে, যা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহের বিষয়ে সচিব জানান, নির্বাচন কমিশন ৮৩টি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৬টি সংস্থা তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এই সংখ্যা ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে উন্নীত হতে পারে। এছাড়া, কমনওয়েলথ থেকে ১০ জন এবং তুরস্ক থেকে ৯ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের সুবিধার্থে ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে, জ্যেষ্ঠ সচিব স্পষ্ট করেছেন যে মোবাইল ব্যাংকিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর পরিবর্তে, লেনদেনের ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। একই নীতি আই-ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ভোটারদের তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন সচিব। তিনি উল্লেখ করেন যে মিরপুরে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ সংক্রান্ত যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে ভোটারদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় সচিব বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। তবে, কোনো প্রার্থী যদি তথ্য গোপন করে নির্বাচন করেন এবং পরবর্তীতে তা প্রমাণিত হয়, তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) নতুন ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) ভলান্টিয়ার কাজ করবেন। আগামী রোববার তাদের কমান্ড স্ট্রাকচার ও ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।