বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় পাশে থাকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে এই প্রতিশ্রুতি দেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে ভিসা বন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠক শেষে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ইস্যুতে একযোগে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ওয়াশিংটনে থাকাকালীন তার ইতিবাচক ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান মেয়াদে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানো ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীকালে মার্কিন সেনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব পালন শুরু করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
















