ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জনকল্যাণে নতুন গবেষণায় মনোনিবেশ করতে বিজ্ঞানীদের প্রতি সচিবের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর বিজ্ঞানীদের জনস্বার্থ ও দেশের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নতুন গবেষণায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিজ্ঞানীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজে মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না, বরং তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিসিএসআইআর সভাকক্ষ আয়োজিত ‘বিসিএসআইআর-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পর্কিত অবহিতকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সচিব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গবেষণার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে দেশগুলো প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের মূল শক্তি ছিল নিবিড় গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন। বাংলাদেশের টেকসই সমৃদ্ধির পথেও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সহজতর করতে বন্দরের ল্যাবরেটরিগুলো এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিনই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

দেশের গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত মানসম্মত গবেষণা সম্পন্ন হলেও প্রচারের অভাবে তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না। ফলে অনেক উদ্ভাবন বিসিএসআইআর-এর ল্যাবরেটরির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ নামক দুটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ কর্মসূচি আয়োজিত হতে যাচ্ছে। সচিব এসময় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনসমূহ জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রম, বিদ্যমান আইন ও প্রবিধানমালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিএসআইআর ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা বাজারজাতকরণের উপযোগী। তবে প্রচারের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা কম রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। দেশের এই শীর্ষ বিজ্ঞানী উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের জোরালো সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

জনকল্যাণে নতুন গবেষণায় মনোনিবেশ করতে বিজ্ঞানীদের প্রতি সচিবের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর বিজ্ঞানীদের জনস্বার্থ ও দেশের মানুষের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নতুন গবেষণায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিজ্ঞানীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কাজে মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না, বরং তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিসিএসআইআর সভাকক্ষ আয়োজিত ‘বিসিএসআইআর-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্পর্কিত অবহিতকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সচিব দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গবেষণার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন।

সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে দেশগুলো প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের মূল শক্তি ছিল নিবিড় গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন। বাংলাদেশের টেকসই সমৃদ্ধির পথেও গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সহজতর করতে বন্দরের ল্যাবরেটরিগুলো এখন থেকে সপ্তাহের সাত দিনই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

দেশের গবেষণা খাতের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত মানসম্মত গবেষণা সম্পন্ন হলেও প্রচারের অভাবে তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না। ফলে অনেক উদ্ভাবন বিসিএসআইআর-এর ল্যাবরেটরির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ নামক দুটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ কর্মসূচি আয়োজিত হতে যাচ্ছে। সচিব এসময় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনসমূহ জনসমক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচার করার জন্য গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রম, বিদ্যমান আইন ও প্রবিধানমালা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিএসআইআর ইতিমধ্যে ৩০টিরও বেশি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা বাজারজাতকরণের উপযোগী। তবে প্রচারের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা কম রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। দেশের এই শীর্ষ বিজ্ঞানী উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের জোরালো সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।