ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঢাকার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতায় ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঢাকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার ফলে যে ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

গত ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিজের মিশন শুরু করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় দিনের মাথায় গতকাল রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রথমবার মতবিনিময়কালে তিনি দ্বিপাক্ষিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রসঙ্গটি উঠে এলে তিনি নিজের ও ওয়াশিংটনের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে তার নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানিতেও তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যে ঝুঁকি রয়েছে, তা আমি বাংলাদেশের বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করব। এ বিষয়ে মার্কিন সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে।”

মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ নিয়মিত যৌথ মহড়া পরিচালনা করছে। গত এক বছরে অনুষ্ঠিত ‘টাইগার শার্ক’ ও ‘টাইগার লাইটনিং’-এর মতো মহড়াগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি এই অংশীদারত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের কথা উল্লেখ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, প্রতিবছর পেশাদার সামরিক শিক্ষার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সহায়তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজেট ও সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প খুঁজে পেতেও ঢাকাকে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। সামগ্রিকভাবে, একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়তে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান নতুন এই মার্কিন দূত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

ঢাকার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতায় ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ঢাকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার ফলে যে ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

গত ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে নিজের মিশন শুরু করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের ছয় দিনের মাথায় গতকাল রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রথমবার মতবিনিময়কালে তিনি দ্বিপাক্ষিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রসঙ্গটি উঠে এলে তিনি নিজের ও ওয়াশিংটনের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, গত অক্টোবরে মার্কিন সিনেটে তার নিয়োগ সংক্রান্ত শুনানিতেও তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার যে ঝুঁকি রয়েছে, তা আমি বাংলাদেশের বর্তমান ও পরবর্তী সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করব। এ বিষয়ে মার্কিন সরকার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে।”

মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ নিয়মিত যৌথ মহড়া পরিচালনা করছে। গত এক বছরে অনুষ্ঠিত ‘টাইগার শার্ক’ ও ‘টাইগার লাইটনিং’-এর মতো মহড়াগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি এই অংশীদারত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের কথা উল্লেখ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, প্রতিবছর পেশাদার সামরিক শিক্ষার জন্য বাংলাদেশকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সহায়তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

রাষ্ট্রদূত আরও যোগ করেন, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজেট ও সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও কার্যকর বিকল্প খুঁজে পেতেও ঢাকাকে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। সামগ্রিকভাবে, একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়তে বাংলাদেশের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান নতুন এই মার্কিন দূত।