আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যৌথ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনের দিনসহ মোট ১২ দিন মাঠে সক্রিয় থাকবেন।
গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাসিমুল গনি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের চার দিন আগে থেকে শুরু করে ভোটের দিন এবং তারপর আরও সাত দিন পর্যন্ত এই যৌথ বাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টহল ও নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত একাধিক বিশেষ দল গতকাল থেকেই সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আগাম তথ্য পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের করণীয় সম্পর্কে তাদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক সদস্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বাহিনীর মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ব মুহূর্ত থেকে শুরু করে গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই ১৩ জন সদস্যের মধ্যে তিনজন অস্ত্রধারী হিসেবে নিয়োজিত থাকবেন। এদের মধ্যে একজন প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং অন্য দুজন ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বে থাকবেন। বাকি ১০ জন সদস্য, যাদের মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, তারা লাঠি হাতে কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন।
এছাড়াও, সারা দেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়নকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থেকে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবেন। তবে, এর পূর্ব থেকেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের টহল অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 
















