নবম বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমের পদোন্নতি নিয়ে সচিবালয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ‘জুলাইযোদ্ধা’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহসানুল হকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, শামসুল আলমের জ্যেষ্ঠতা ও অবদানের আলোকে তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদায়ন করা হোক।
স্মারকলিপিতে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেছেন, মো. শামসুল আলম ‘৩৬ জুলাই’ ধারণার জন্মদাতা। তিনি আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে মতবিরোধের এক পর্যায়ে আন্দোলনকে এক দফায় কেন্দ্রীভূত করার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন। তার একটি উক্তি, ‘হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হবে না’, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের ঐক্যবদ্ধ স্লোগানে পরিণত হয় বলে তারা দাবি করেন। আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, প্রবাসে থেকেও শামসুল আলম এই আন্দোলনে নিয়মিত কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর সভাপতি সালমান হোসেন, ছাত্র প্রতিনিধি হাসিবুল হাসান জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সেহরিন এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি কাজী আশরাফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
‘জুলাইযোদ্ধা’দের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মো. শামসুল আলম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) তিনি রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শামসুল আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে চাকরি পুনর্বহাল করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বা মুখ্য সচিব পর্যায়ের দায়িত্বে পদায়নের নীতিগত অনুমোদন দেন। তবে, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রভাবশালী কর্মকর্তারা প্রজ্ঞাপন জারি না করে নথি গায়েব করে দিয়েছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে শামসুল আলমের পদোন্নতি নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রিপোর্টারের নাম 
















