ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ভারতে নির্বাসিত হাসিনার তৎপরতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে, সেখানে বসেই তিনি বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে অস্বস্তি তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভারত থেকে শেখ হাসিনার এ ধরনের বিবৃতি ঢাকা প্রত্যাশা করে না।

বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের মধ্যেকার টানাপোড়েন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন দেখা দেয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টা কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে। সবশেষ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

এই প্রেক্ষাপটে, তৌহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ১০ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত থেকে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি বাংলাদেশের জন্য কাম্য নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে না।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন জানান, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো নিপীড়নের ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা আমাদের নাগরিক। যদি তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়, তাহলে আমাদের কাছে তা মোকাবিলা করার ব্যবস্থা আছে।” একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান, “ভারতের উচিত তার সংখ্যালঘুদের যত্ন নেওয়া, ঠিক যেমন আমরা আমাদের সংখ্যালঘুদের যত্ন নিই।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, যদিও তারা একে-অপরকে শত্রু মনে করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

ভারতে নির্বাসিত হাসিনার তৎপরতা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ

আপডেট সময় : ০৮:১১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে, সেখানে বসেই তিনি বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে অস্বস্তি তৈরি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ভারত থেকে শেখ হাসিনার এ ধরনের বিবৃতি ঢাকা প্রত্যাশা করে না।

বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের মধ্যেকার টানাপোড়েন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু টানাপোড়েন দেখা দেয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টা কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে। সবশেষ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

এই প্রেক্ষাপটে, তৌহিদ হোসেনের সাক্ষাৎকারটি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ১০ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত থেকে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি বাংলাদেশের জন্য কাম্য নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে না।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন জানান, সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো নিপীড়নের ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা আমাদের নাগরিক। যদি তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়, তাহলে আমাদের কাছে তা মোকাবিলা করার ব্যবস্থা আছে।” একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানান, “ভারতের উচিত তার সংখ্যালঘুদের যত্ন নেওয়া, ঠিক যেমন আমরা আমাদের সংখ্যালঘুদের যত্ন নিই।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, যদিও তারা একে-অপরকে শত্রু মনে করে।