ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঢাকার ইতিহাস চর্চায় কিংবদন্তী অধ্যাপক আহমদ হাসান দানি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার পথিকৃৎ এবং এই অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ হাসান দানির স্মৃতি আজও অম্লান। তাঁর প্রজ্ঞা ও অবদানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘প্রফেসর দানি এই অঞ্চলের ইতিহাসের ওপর যে জ্ঞান রাখেন, আমি সাত জন্মেও তা জানতে পারবো না।’ ১৯২০ সালের ২০ জুন কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী এই বরেণ্য পণ্ডিত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রত্নতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ এবং বহুভাষাবিদ।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর অধ্যাপক দানি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে। তক্ষশিলা ও মহেঞ্জোদারোর মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে খননকাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করে। জীবনের এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি ঢাকায় অতিবাহিত করেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক এবং ঢাকা জাদুঘরের পরিচালক (কিউরেটর) হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণার ফলেই ঢাকার একটি ধারাবাহিক ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রচনা সম্ভব হয়েছে, যা ‘Dacca : A Record of Its Changing Fortunes’ (বাংলায় ‘কালের সাক্ষী ঢাকা’) নামে আজও ঢাকার ইতিহাসের এক অমূল্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

ঢাকার বিদ্বৎসমাজের সহায়তায় ১৯৫২ সালে পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা ছিল অধ্যাপক দানির অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ১৯৬২ সালে পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৬৯ সালে তাঁকে ফেলোশিপ এবং ১৯৮৬ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে সম্মানিত করে।

অধ্যাপক দানি কেবল একজন ইতিহাসবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ। এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আজও সর্বোচ্চThe highest scholarly regard. তিনি প্রায় তিন ডজন ভাষা ও উপভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর লেখনীতে সেই ভাষার জ্ঞান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিগত হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে যারা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন অধ্যাপক দানির ছাত্র। তাঁর সরাসরি ছাত্র ও গবেষকদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. মঈনউদ্দিন আহমেদ খান, অধ্যাপক ড. আব্দুর করিমের মতো দেশবরেণ্য পণ্ডিতগণ। তাঁদের গবেষণার মান, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তি বর্ণনায় কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি স্যার যদুনাথ সরকারের গবেষণার সঙ্গে তুলনীয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও গেছে।

অধ্যাপক দানি বিশ্বজুড়ে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে উত্তর পাকিস্তানে প্রাক-সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা ও গান্ধারার ওপর তাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাঁর গবেষণার সূত্র ধরেই বেলুচিস্তানে বিশ্বের আদিমতম সভ্যতার আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল। তিনি একাধারে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও স্থাপত্য, প্যালিওগ্রাফি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো—‘Dacca : A Record of Its Changing Fortunes’ (১৯৫৬), ‘Muslim Architecture in Bengal’ (১৯৬১), ‘Indus Civilization : New Perspectives’ (১৯৮১), ‘Thatta : Islamic Architecture’ (১৯৮২), ‘Human Records on Karakorum Highway’ (১৯৯৫), ‘Peshawar : Historic City of the Frontier’ (১৯৯৫), ‘New Light on Central Asia’ (১৯৯৬), ‘Central Asia Today’ (১৯৯৬), ‘Romance of the Khyber Pass’ (১৯৯৭), ‘History of Northern Areas of Pakistan up to 2000 AD’ (২০০১) এবং ‘Historic City of Taxila’ (২০০১)।

অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির গবেষণা ও প্রকাশনা বিশ্বজুড়ে তাঁকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৮-৫৯), অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানবেরা (১৯৬৯), পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৪) এবং উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিসন (১৯৭৭)-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ভিজিটিং প্রফেসর ও ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জীবদ্দশাতেই তিনি তাঁর কাজের জন্য বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত হিলালে ইমতিয়াজ (ক্রিসেন্ট অব এক্সেলেন্স) এবং সিতারায়ে ইমতিয়াজ (স্টার অব এক্সেলেন্স) পুরস্কার, ফরাসি প্রজাতন্ত্রের লেজিওঁ দনর, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক অ্যারিস্টটল রৌপ্যপদক, জার্মানি সরকার কর্তৃক অর্ডার অব দ্য মেরিট, ইতালি সরকার কর্তৃক নাইট কমান্ডার, ফ্রান্স সরকার কর্তৃক পালমস আকাডেমিক্স এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক স্বর্ণপদক। এই সকল সম্মাননা অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির মহাসাগর-সম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সামান্যই প্রতিফলন।

২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে এই প্রখ্যাত পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর গবেষণা ও অবদান আজও মানবসভ্যতার ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব চর্চায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

ঢাকার ইতিহাস চর্চায় কিংবদন্তী অধ্যাপক আহমদ হাসান দানি

আপডেট সময় : ০২:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার পথিকৃৎ এবং এই অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ হাসান দানির স্মৃতি আজও অম্লান। তাঁর প্রজ্ঞা ও অবদানের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘প্রফেসর দানি এই অঞ্চলের ইতিহাসের ওপর যে জ্ঞান রাখেন, আমি সাত জন্মেও তা জানতে পারবো না।’ ১৯২০ সালের ২০ জুন কাশ্মীরে জন্মগ্রহণকারী এই বরেণ্য পণ্ডিত ছিলেন একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রত্নতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ এবং বহুভাষাবিদ।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর অধ্যাপক দানি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে। তক্ষশিলা ও মহেঞ্জোদারোর মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে খননকাজে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করে। জীবনের এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি ঢাকায় অতিবাহিত করেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক এবং ঢাকা জাদুঘরের পরিচালক (কিউরেটর) হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণার ফলেই ঢাকার একটি ধারাবাহিক ও সমৃদ্ধ ইতিহাস রচনা সম্ভব হয়েছে, যা ‘Dacca : A Record of Its Changing Fortunes’ (বাংলায় ‘কালের সাক্ষী ঢাকা’) নামে আজও ঢাকার ইতিহাসের এক অমূল্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

ঢাকার বিদ্বৎসমাজের সহায়তায় ১৯৫২ সালে পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা ছিল অধ্যাপক দানির অন্যতম বড় কৃতিত্ব। ১৯৬২ সালে পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৬৯ সালে তাঁকে ফেলোশিপ এবং ১৯৮৬ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে সম্মানিত করে।

অধ্যাপক দানি কেবল একজন ইতিহাসবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রাচ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ। এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আজও সর্বোচ্চThe highest scholarly regard. তিনি প্রায় তিন ডজন ভাষা ও উপভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং তাঁর লেখনীতে সেই ভাষার জ্ঞান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিগত হাজার বছরের ইতিহাস নিয়ে যারা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন অধ্যাপক দানির ছাত্র। তাঁর সরাসরি ছাত্র ও গবেষকদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, অধ্যাপক ড. মঈনউদ্দিন আহমেদ খান, অধ্যাপক ড. আব্দুর করিমের মতো দেশবরেণ্য পণ্ডিতগণ। তাঁদের গবেষণার মান, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তি বর্ণনায় কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি স্যার যদুনাথ সরকারের গবেষণার সঙ্গে তুলনীয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও গেছে।

অধ্যাপক দানি বিশ্বজুড়ে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে উত্তর পাকিস্তানে প্রাক-সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা ও গান্ধারার ওপর তাঁর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তাঁর গবেষণার সূত্র ধরেই বেলুচিস্তানে বিশ্বের আদিমতম সভ্যতার আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল। তিনি একাধারে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান, শিল্পকলা ও স্থাপত্য, প্যালিওগ্রাফি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো—‘Dacca : A Record of Its Changing Fortunes’ (১৯৫৬), ‘Muslim Architecture in Bengal’ (১৯৬১), ‘Indus Civilization : New Perspectives’ (১৯৮১), ‘Thatta : Islamic Architecture’ (১৯৮২), ‘Human Records on Karakorum Highway’ (১৯৯৫), ‘Peshawar : Historic City of the Frontier’ (১৯৯৫), ‘New Light on Central Asia’ (১৯৯৬), ‘Central Asia Today’ (১৯৯৬), ‘Romance of the Khyber Pass’ (১৯৯৭), ‘History of Northern Areas of Pakistan up to 2000 AD’ (২০০১) এবং ‘Historic City of Taxila’ (২০০১)।

অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির গবেষণা ও প্রকাশনা বিশ্বজুড়ে তাঁকে খ্যাতি এনে দিয়েছে। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৮-৫৯), অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যানবেরা (১৯৬৯), পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৭৪) এবং উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিসন (১৯৭৭)-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ভিজিটিং প্রফেসর ও ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জীবদ্দশাতেই তিনি তাঁর কাজের জন্য বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত হিলালে ইমতিয়াজ (ক্রিসেন্ট অব এক্সেলেন্স) এবং সিতারায়ে ইমতিয়াজ (স্টার অব এক্সেলেন্স) পুরস্কার, ফরাসি প্রজাতন্ত্রের লেজিওঁ দনর, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) কর্তৃক অ্যারিস্টটল রৌপ্যপদক, জার্মানি সরকার কর্তৃক অর্ডার অব দ্য মেরিট, ইতালি সরকার কর্তৃক নাইট কমান্ডার, ফ্রান্স সরকার কর্তৃক পালমস আকাডেমিক্স এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক স্বর্ণপদক। এই সকল সম্মাননা অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির মহাসাগর-সম জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সামান্যই প্রতিফলন।

২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে এই প্রখ্যাত পণ্ডিত মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর গবেষণা ও অবদান আজও মানবসভ্যতার ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব চর্চায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।