ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ব্যবসায়িক প্রভাবের কাছে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব: টিআইবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়িক শক্তির কাছে নির্বাচন কমিশন জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামাগুলোতে অনেক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে যে ইসলামপন্থী কোনো দল থেকে কোনো নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এছাড়া, একটি বড় দল একজন প্রভাবশালী নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ সেখানে অন্য একটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। এই ঘটনাগুলো রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২১ জন প্রার্থী বিদেশ থেকে আয় করেন। ২৫ জন প্রার্থী বিদেশে তাদের অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ১৭ জন প্রার্থী বাংলাদেশের বাইরে তাদের স্থাবর সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি মালিকানার হিসাব জমা দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে অর্থ ও ব্যবসা এখন মূল চালিকাশক্তি। অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্মীয় প্রভাবের একীকরণ রাজনীতিকে এক ধরনের জিম্মি অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে অসুস্থ রাজনীতি সুস্থ রাজনীতির জায়গা দখল করে নিচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হলফনামা অনুযায়ী, ২১ জন প্রার্থী তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিলেও, সংস্থাটির কাছে দুজনের তথ্য রয়েছে যারা এখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন। এছাড়াও, একজন প্রার্থীর নির্ভরশীলদের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড (যা প্রায় ২১০ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বাড়ির সাথে সংশ্লিষ্টতার তথ্য টিআইবির হাতে এসেছে, যা উক্ত প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এই ধরনের লুকানো তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

ব্যবসায়িক প্রভাবের কাছে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব: টিআইবি

আপডেট সময় : ০২:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়িক শক্তির কাছে নির্বাচন কমিশন জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামাগুলোতে অনেক তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা গেছে যে ইসলামপন্থী কোনো দল থেকে কোনো নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এছাড়া, একটি বড় দল একজন প্রভাবশালী নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ সেখানে অন্য একটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। এই ঘটনাগুলো রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব এবং দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ২১ জন প্রার্থী বিদেশ থেকে আয় করেন। ২৫ জন প্রার্থী বিদেশে তাদের অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ১৭ জন প্রার্থী বাংলাদেশের বাইরে তাদের স্থাবর সম্পত্তি, বিশেষ করে জমি মালিকানার হিসাব জমা দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে অর্থ ও ব্যবসা এখন মূল চালিকাশক্তি। অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্মীয় প্রভাবের একীকরণ রাজনীতিকে এক ধরনের জিম্মি অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে অসুস্থ রাজনীতি সুস্থ রাজনীতির জায়গা দখল করে নিচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হলফনামা অনুযায়ী, ২১ জন প্রার্থী তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিলেও, সংস্থাটির কাছে দুজনের তথ্য রয়েছে যারা এখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন। এছাড়াও, একজন প্রার্থীর নির্ভরশীলদের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড (যা প্রায় ২১০ কোটি টাকা) মূল্যের একটি বাড়ির সাথে সংশ্লিষ্টতার তথ্য টিআইবির হাতে এসেছে, যা উক্ত প্রার্থী তার হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এই ধরনের লুকানো তথ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ করে।