ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না। বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের সঙ্গেই ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে কাজ করবে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল গণমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার নির্বাচন করা এ দেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল এ দেশের মানুষই, এখানে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে তার অগ্রাধিকার থাকবে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা। তবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়টিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ দেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন দূতাবাসে ডেস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাদে বিএনপি সরকার, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গেও তিনি কাজ করছেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে ওয়াশিংটন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলা, আহত ২

বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

আপডেট সময় : ১১:০০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না। বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের সঙ্গেই ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে কাজ করবে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল গণমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার নির্বাচন করা এ দেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল এ দেশের মানুষই, এখানে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে তার অগ্রাধিকার থাকবে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা। তবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের বিষয়টিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ দেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন দূতাবাসে ডেস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাদে বিএনপি সরকার, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গেও তিনি কাজ করছেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে ওয়াশিংটন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।