আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ৭৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের জন্য চরম বেকায়দা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, অনেক আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা নিজেদের বিজয় নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন।
দলীয় সূত্র এবং মাঠের খবর অনুযায়ী, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বারবার কঠোর হুঁশিয়ারি এবং অনেককে বহিষ্কার করা হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তারা স্বতন্ত্র বা অন্য প্রতীকে নির্বাচন করছেন, যা সরাসরি দলের মনোনীত প্রার্থীর ভোটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং তাদের নিজস্ব জনভিত্তি রয়েছে, সেখানে ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে থাকা একদিকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তেমনি ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর ফলে একদিকে দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দলের প্রতীক নিয়েও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীর চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, যা দলের মূল প্রচারণায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিবৃত্ত করতে কেন্দ্র থেকে একাধিকবার বার্তা পাঠানো হয়েছে, এমনকি প্রবীণ নেতাদের মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টাও করা হয়েছে। তবে সেসব প্রচেষ্টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী মনে করছেন, তাদের জনসমর্থন রয়েছে এবং তারা দলের কাছে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি, যে কারণে তারা মাঠ ছাড়তে নারাজ। এই বিদ্রোহ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধানের শীষের প্রার্থীরা একদিকে যেমন প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়ছেন, তেমনি নিজেদের দলের ভেতরের এই বিদ্রোহও তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 















