চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) গত তিন মাসের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও অর্জনের বিস্তারিত চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত চাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিগত ৯০ দিনের উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, পরিবহন, একাডেমিক সংস্কার এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে শাটল ট্রেনে পাওয়ার কার সংযুক্তকরণ ও বাতি সংস্কারের পাশাপাশি ছয়টি নতুন ই-কার এবং তিনটি নতুন বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টাফ বাস পুনরায় চালু এবং শুক্রবার শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ই-কার সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে আলাওল ও এ এফ রহমান হলের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে চাকসু বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ভর্তি পরীক্ষায় বিতর্কিত ‘পোষ্য কোটা’ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সনদ ও ফরম উত্তোলনের ক্ষেত্রে ফি এবং প্রভোস্টের স্বাক্ষর প্রথা বিলুপ্ত করে নিজ নিজ বিভাগ থেকেই মার্কশিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় প্যাভিলিয়ন ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি চাকসু ভবনের আধুনিকায়নে নতুন আসবাবপত্র সংযোজন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে মশক নিধন অভিযান, একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ফার্স্ট এইড ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং ফিজিওথেরাপি ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয় ও হলের মাঠ সংস্কারসহ জিমনেসিয়ামে আধুনিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ ও জিম নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি রক্ষায় লিখন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ছাত্রীকল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনটি হলে সেলাই মেশিন বিতরণ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নামাজের স্থান নির্ধারণ এবং নতুন ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ছাত্রীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও গর্ভাবস্থায় উপস্থিতির নিয়ম শিথিলের দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক ই-মেইল চালু, বিনামূল্যে আইটি কোর্স এবং ডুয়েল কারেন্সি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার প্রসারে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের থিসিসের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের জন্য মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া আইনগত সহায়তার জন্য ‘লিগ্যাল এইড সেল’ চালুসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ আগামী দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 















