ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচনী রণক্ষেত্রে চূড়ান্ত ১৯৬৭ প্রার্থী: কাল প্রতীক বরাদ্দ, বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার শুরু

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার দেশজুড়ে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩শ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এখন মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী, আজ বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রতীক পাবেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে একই প্রতীকের একাধিক দাবিদার থাকলে লটারির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার নির্বাচনে বিএনপি ২৯০টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ২১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৯, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৬, গণঅধিকার পরিষদ ৯২ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়াইয়ে রয়েছে। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিন শতাধিক ব্যক্তি, যাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বলে জানা গেছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তবে দলটির বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক হলো একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া এবারই প্রথম প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই শীর্ষ নেতারা মাঠে নামছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে তাঁর নির্বাচনী সফর শুরু করবেন। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন।

নির্বাচনী জোট ও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিএনপি শরিকদের জন্য ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে ২১৬টি আসনে লড়ছে এবং বাকি আসনগুলো শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। তবে কিছু আসনে শরিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ সেনাসদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটকক্ষে গোপন বুথের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হলেও পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। ফলে ওই দুই আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আগামী ২৬ জানুয়ারি জানা যাবে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আপিলগুলোর রায় এলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনী রণক্ষেত্রে চূড়ান্ত ১৯৬৭ প্রার্থী: কাল প্রতীক বরাদ্দ, বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার শুরু

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার দেশজুড়ে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৩শ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এখন মাঠে রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী, আজ বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রতীক পাবেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কমিশনের নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে একই প্রতীকের একাধিক দাবিদার থাকলে লটারির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামতে পারবেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার নির্বাচনে বিএনপি ২৯০টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ২১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৯, জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৬, গণঅধিকার পরিষদ ৯২ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে লড়াইয়ে রয়েছে। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তিন শতাধিক ব্যক্তি, যাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বলে জানা গেছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তবে দলটির বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক হলো একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া এবারই প্রথম প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকেই শীর্ষ নেতারা মাঠে নামছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে তাঁর নির্বাচনী সফর শুরু করবেন। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবেন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন।

নির্বাচনী জোট ও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিএনপি শরিকদের জন্য ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের কয়েকজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ২৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবে ২১৬টি আসনে লড়ছে এবং বাকি আসনগুলো শরিকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। তবে কিছু আসনে শরিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তায় সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৯ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ লাখ সেনাসদস্য সরাসরি মাঠে থাকবেন। ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটকক্ষে গোপন বুথের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হলেও পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে নতুন তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। ফলে ওই দুই আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আগামী ২৬ জানুয়ারি জানা যাবে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আপিলগুলোর রায় এলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।