ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর্যায় এবং শুরু হলো ভোটের মাঠের চূড়ান্ত তৎপরতা। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর সারা দেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে ২৯৮টি সংসদীয় আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। এবারের নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো আসনেই একক কোনো প্রার্থী নেই; অর্থাৎ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
আসনভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর পরেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন, যেখানে প্রার্থীর সংখ্যা ১৩ জন। দেশের কিছু আসনে সর্বনিম্ন দুইজন প্রার্থী একে অপরের মোকাবিলা করবেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আপিল ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকায় প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি পৃথক ব্যালট পেপারের মাধ্যমে গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে আয়োজিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 















