ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

শীতের দোরগোড়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা: জনজীবনে অস্বস্তি, উদ্বেগে আবহাওয়াবিদরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বছরের যে সময়ে প্রকৃতি শীতল থাকার কথা, সেই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এই পরিস্থিতিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই আকস্মিক উষ্ণতা একদিকে যেমন জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করছে, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরুতে দেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকার কথা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়ও তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ এবং বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ। দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যেমন তাপমাত্রা বাড়ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরে দেশ তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে পারে এবং অতীতের সকল উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ এই আকস্মিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে দেশে কোথাও শৈত্যপ্রবাহের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের গড় তাপমাত্রা গত তিন বছর ধরে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়। এমন পরিস্থিতিতে, দিনের এবং রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কমে আসা এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শীতের দোরগোড়ায় রেকর্ড তাপমাত্রা: জনজীবনে অস্বস্তি, উদ্বেগে আবহাওয়াবিদরা

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বছরের যে সময়ে প্রকৃতি শীতল থাকার কথা, সেই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এই পরিস্থিতিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই আকস্মিক উষ্ণতা একদিকে যেমন জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি করছে, তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরুতে দেশের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকার কথা। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়ও তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ এবং বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ। দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যেমন তাপমাত্রা বাড়ছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরে দেশ তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে পারে এবং অতীতের সকল উষ্ণতার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ এই আকস্মিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে দেশে কোথাও শৈত্যপ্রবাহের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের গড় তাপমাত্রা গত তিন বছর ধরে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়ায়। এমন পরিস্থিতিতে, দিনের এবং রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কমে আসা এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।