ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গণভোট ২০২৬: গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও জনগণের ভূমিকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গণভোট ২০২৬-কে অভিহিত করেছেন নৌপরিবহন ও শ্রম এবং কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মনে করেন, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি নিজেদের মতামত প্রদানের সুযোগ পাবে, যা গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন। পঞ্চগড় সরকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় গণভোট ২০২৬-এর প্রচারণা বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায়।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয় এবং ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গড়ার যে সুযোগ এসেছে, তা হাতছাড়া হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা পূর্বের নিয়মে ফিরে যেতে বাধ্য হব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন এবং অতীতের স্বৈরাচারি কর্মকাণ্ড থেকে জাতির পরিত্রাণ পেতে হলে এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে, প্রত্যেক নাগরিককে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে তাদের রায় দিতে হবে।

গণভোট সফল করতে জনগণের মধ্যে সঠিক ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিভ্রান্তি নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমেই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই কাজে জেলা প্রশাসনসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

ড. সাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করেন যে, গণভোট একটি সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে জনগণের মতামত অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, “গণভোট ২০২৬-এর মাধ্যমে জনগণ কেবল ভোটই দেবে না, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।”

সবশেষে, পঞ্চগড় জেলার জনগণের সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেলা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে এসেছে। গণভোট ২০২৬ সফল করতেও পঞ্চগড়ের জনগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গণভোট ২০২৬: গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও জনগণের ভূমিকা

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গণভোট ২০২৬-কে অভিহিত করেছেন নৌপরিবহন ও শ্রম এবং কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি মনে করেন, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি নিজেদের মতামত প্রদানের সুযোগ পাবে, যা গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে তুলবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন। পঞ্চগড় সরকার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় গণভোট ২০২৬-এর প্রচারণা বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উপদেষ্টা বলেন, গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চায়।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত না হয় এবং ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ গড়ার যে সুযোগ এসেছে, তা হাতছাড়া হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা পূর্বের নিয়মে ফিরে যেতে বাধ্য হব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের আমূল পরিবর্তন এবং অতীতের স্বৈরাচারি কর্মকাণ্ড থেকে জাতির পরিত্রাণ পেতে হলে এবং জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে, প্রত্যেক নাগরিককে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে তাদের রায় দিতে হবে।

গণভোট সফল করতে জনগণের মধ্যে সঠিক ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিভ্রান্তি নয়, বরং তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমেই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই কাজে জেলা প্রশাসনসহ মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।

ড. সাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করেন যে, গণভোট একটি সুস্পষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে জনগণের মতামত অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, “গণভোট ২০২৬-এর মাধ্যমে জনগণ কেবল ভোটই দেবে না, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।”

সবশেষে, পঞ্চগড় জেলার জনগণের সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেলা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে এসেছে। গণভোট ২০২৬ সফল করতেও পঞ্চগড়ের জনগণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।