বাংলাদেশ পুলিশ রাইফেল ক্লাবের মাঠে এক উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পুলিশ রাইফেল, বেসবল, উডবল, ফুটবল এবং টাচবল (পুরুষ ও নারী) চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান। সপ্তাহব্যাপী এই প্রতিযোগিতা কেবল ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রদর্শনীই ছিল না, বরং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন অতিরিক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ কাজী ফজলুল করিম। বাংলাদেশ পুলিশ রাইফেল, বেসবল, উডবল, ফুটবল ও টাচবল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং পুলিশ সুপার মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্রীড়া উপকমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই চ্যাম্পিয়নশিপে ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন জেলা এবং বিশেষায়িত ইউনিট থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। রাইফেল, বেসবল, উডবল, ফুটবল ও টাচবল—এই পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে পুরুষ ও নারী বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ। অনেক খেলাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ধরে রেখেছিল, যা খেলোয়াড় এবং দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।
রাইফেল এবং উডবল ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্যভেদের নিখুঁত দক্ষতা ও কৌশলগত পারদর্শিতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বেসবলের লড়াইয়ে ছিল ব্যাটিং ও বোলিংয়ের এক ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। ফুটবল ও টাচবলে দলগত সমন্বয়, আক্রমণ-রক্ষণের সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতার চমৎকার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে, নারী বিভাগের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী এবং গতিশীল পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা ক্রীড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। মাঠে অর্জিত এই ইতিবাচক অভ্যাস কর্মক্ষেত্রেও পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ভবিষ্যতে পুলিশের ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও নিয়মিত করার ওপর বক্তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে, প্রধান অতিথি আইজিপি বাহারুল আলম এবং বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত আইজিপি কাজী ফজলুল করিম বিজয়ী ও রানার্সআপ দলগুলোর হাতে ট্রফি, মেডেল এবং সনদপত্র তুলে দেন। তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় পুরো মাঠ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার বার্তা নিয়ে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য ক্রীড়া আয়োজন।
রিপোর্টারের নাম 















