ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নজরদারি বাড়াতে প্রায় ৭২ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশেষ একটি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে পূর্ব থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং এসব কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেশের সকল জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

উপ-প্রেস সচিব উল্লেখ করেন যে, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে গাজীপুর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। গাজীপুরের মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪ ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এসব কেন্দ্রের অধিকাংশেই সিসিটিভি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেও ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার আরও জানান, সারাদেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে জেনারেটরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আয়তনের কারণে ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে নাকি একাধিক অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শফিকুল আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন চালানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নজরদারি বাড়াতে প্রায় ৭২ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশেষ একটি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে সরকার। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে পূর্ব থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা আছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এবং এসব কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেশের সকল জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

উপ-প্রেস সচিব উল্লেখ করেন যে, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে গাজীপুর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। গাজীপুরের মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪ ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এসব কেন্দ্রের অধিকাংশেই সিসিটিভি বসানো সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেও ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে।

আবুল কালাম আজাদ মজুমদার আরও জানান, সারাদেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে জেনারেটরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আয়তনের কারণে ঢাকা মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে নাকি একাধিক অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শফিকুল আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন চালানো হবে।