প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প সফল হলে বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এবং এটি একটি বৈশ্বিক নজির স্থাপন করবে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালট অ্যাপের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিইসি তার বক্তব্যে এই উদ্যোগকে এক ‘সাহসিকতাপূর্ণ ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছি, যা এর আগে কেউ চেষ্টা করেনি বা এই ঝুঁকি নিতে সাহস দেখায়নি।” তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে এবং বহু বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে গণমাধ্যমের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে সিইসি বলেন, “সাংবাদিকদের নিরন্তর সমর্থন ছাড়া আমরা এতদূর আসতে পারতাম না।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেও, গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য পেয়েছে এবং এর ফলে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
যেকোনো নতুন উদ্যোগে ভুল বোঝাবুঝি বা ত্রুটি থাকতে পারে স্বীকার করে সিইসি বলেন, “সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এসব বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।” তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা কমিশন সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।
সিইসি জানান, বিশ্বের ১২২টি দেশ থেকে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ১২২টি ভিন্ন সংস্কৃতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ডাক বিভাগের ভিন্ন ভিন্ন আইন-কানুন সমন্বয় করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। তিনি এই জটিলতা মোকাবিলায় নিরলস কাজ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই প্রকল্প সফল হলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।” অনেক দেশ এই ধরনের উদ্যোগ সফল করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এমন সফল দৃষ্টান্ত নেই।” সিইসি জানান, প্রথম বছরেই কমিশন এই কাজটি মোটামুটিভাবে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারাবন্দী এবং নিজ আসনের বাইরে কর্মরতদের জন্য ভোটদানের ব্যবস্থা অতীতে থাকলেও, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবারই প্রথম নেওয়া হয়েছে।
উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, “শুধু শুনে গেলেই হবে না, আমাদের বার্তাটি সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।” তিনি বলেন, “যদি কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাহলে কমিশনের পক্ষ থেকে আপনারা তা পরিষ্কার করে দেবেন।” সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টারের নাম 















