ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে গণভোট: মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল দেশবাসীর প্রতি ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর এই সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, ইতিহাস রচনায় মানুষের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল ভূমিকার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের গণ-অভ্যুত্থান অতীতের সকল প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোয় জনগণের প্রকৃত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গণভোট এবং একইসাথে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আয়োজনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালনের জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

‘জুলাই সনদ’-এর গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৫ সাল জাতির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে। এই সনদ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। একইসাথে, এটি ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‘জুলাই সনদ’-এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই সনদ বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। এই কারণে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নঈম জাহাঙ্গীর আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই গণতান্ত্রিক আয়োজন যেন জনগণের এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সকলে আনন্দ, সৌহার্দ্য এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনকে একটি আনন্দময় উৎসবে রূপান্তর করে জনগণের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা উচিত। দল-মত নির্বিশেষে সকলে যেন ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে গণভোট: মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দেশবাসীর প্রতি আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:৫২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল দেশবাসীর প্রতি ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর এই সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে, ইতিহাস রচনায় মানুষের ভূমিকাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘকাল ধরে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল ভূমিকার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের গণ-অভ্যুত্থান অতীতের সকল প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোয় জনগণের প্রকৃত মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গণভোট এবং একইসাথে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আয়োজনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালনের জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

‘জুলাই সনদ’-এর গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৫ সাল জাতির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে। এই সনদ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। একইসাথে, এটি ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‘জুলাই সনদ’-এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই সনদ বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। এই কারণে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নঈম জাহাঙ্গীর আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই গণতান্ত্রিক আয়োজন যেন জনগণের এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে সকলে আনন্দ, সৌহার্দ্য এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনকে একটি আনন্দময় উৎসবে রূপান্তর করে জনগণের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা উচিত। দল-মত নির্বিশেষে সকলে যেন ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করেন এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।”