ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন: ‘ভবিষ্যতে এমন প্রয়োজন যেন না হয়’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

গণভবনে নির্মিত হতে যাওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই পরিদর্শনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা এবং উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘর পরিদর্শনের পর ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যেন কোথাও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন না হয়। যদি কোনো জাতি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, তবে এই জাদুঘর তাদের পথ খুঁজে পেতে সহায়ক হবে।”

মঙ্গলবার বিকেলে জাদুঘরে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং বিগত ১৬ বছরের শাসনকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার চিত্র ঘুরে দেখেন। প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এখানে এসে একদিন কাটানো, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে জাদুঘর পরিদর্শন করবে। এটি তাদের এই জাতিকে কী ধরনের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা জানতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাদুঘরের ‘আয়নাঘর’-এ দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করে বন্দীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারবে। এর মাধ্যমে তারা উপলব্ধি করবে যে, কীভাবে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকা সম্ভব।

ড. ইউনূস বলেন, “নৃশংসতার বিরুদ্ধে তরুণ ও ছাত্রসমাজ অস্ত্র ছাড়াই রুখে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষও যে নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে প্রতিবাদ করতে পারে, এটি আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা।”

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের নির্মাণকাজে নিয়োজিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এত অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে আসা একটি রেকর্ড। এটি সম্ভব হয়েছে অনেক তরুণ-তরুণীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে, যারা আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আরও কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচনের পূর্বেই এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়েই থাকবে না, বরং বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনা, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত আসা ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষক এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে গণঅভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠি, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তৎকালীন পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরে ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং ‘চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালীন সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন: ‘ভবিষ্যতে এমন প্রয়োজন যেন না হয়’

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গণভবনে নির্মিত হতে যাওয়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ এর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই পরিদর্শনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতা এবং উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। জাদুঘর পরিদর্শনের পর ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই এই জাদুঘর নির্মাণ সম্ভব হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যেন কোথাও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন না হয়। যদি কোনো জাতি কখনো দিশেহারা হয়ে পড়ে, তবে এই জাদুঘর তাদের পথ খুঁজে পেতে সহায়ক হবে।”

মঙ্গলবার বিকেলে জাদুঘরে পৌঁছানোর পর প্রধান উপদেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস এবং বিগত ১৬ বছরের শাসনকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার চিত্র ঘুরে দেখেন। প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এখানে এসে একদিন কাটানো, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে জাদুঘর পরিদর্শন করবে। এটি তাদের এই জাতিকে কী ধরনের নৃশংসতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা জানতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাদুঘরের ‘আয়নাঘর’-এ দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করে বন্দীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারবে। এর মাধ্যমে তারা উপলব্ধি করবে যে, কীভাবে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকা সম্ভব।

ড. ইউনূস বলেন, “নৃশংসতার বিরুদ্ধে তরুণ ও ছাত্রসমাজ অস্ত্র ছাড়াই রুখে দাঁড়িয়েছিল। সাধারণ মানুষও যে নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে প্রতিবাদ করতে পারে, এটি আমাদের জন্য এক বড় শিক্ষা।”

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীসহ জাদুঘরের নির্মাণকাজে নিয়োজিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এত অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে আসা একটি রেকর্ড। এটি সম্ভব হয়েছে অনেক তরুণ-তরুণীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে, যারা আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আরও কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন হবে এবং নির্বাচনের পূর্বেই এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়েই থাকবে না, বরং বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনা, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত আসা ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষক এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে গণঅভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠি, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, তৎকালীন পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরে ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ফ্যাসিস্ট শাসনের অধীনে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং ‘চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালীন সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।