আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস—এই চারটি রাজনৈতিক দলকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, উল্লিখিত দলগুলোর প্রধানদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কমিশন ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিএনপির অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারির পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও চারটি দল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোটের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে অথবা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টার, ব্যানার, সভা-সমাবেশ বা জনসংযোগমূলক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেনি, তবুও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মাঠ পর্যায়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সভা, গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই আগাম তৎপরতা নিয়েই বিএনপি আপত্তি তুলেছে।
বিএনপির মতে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু দল আগাম প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনী পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট করছে এবং অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং অংশগ্রহণকারী সকল দলের জন্য সমান সুযোগের নীতির পরিপন্থী।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে, কোনো দল বা গোষ্ঠী যেন নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে কমিশন কঠোর নজরদারি রাখবে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, এই সতর্কবার্তার পরও যদি কোনো দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 















