রাষ্ট্র সংস্কার এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার গণভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে জনগণের সরাসরি সম্মতির বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানে উদ্বুদ্ধকরণ ও গণভোটের গুরুত্ব নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন মূল্যবোধের সমাজ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। বিগত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সমাজকে আরও মানবিক ও ন্যায্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবে রাষ্ট্রের এই আমূল পরিবর্তন কেবল স্বল্পকালীন সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন বিপুল জনসমর্থন। আর সেই জনমত যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো গণভোট।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যারা দ্বিধাগ্রস্ত, তাদের বোঝা উচিত যে রাতের আঁধারে ভোট কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ। গুম, খুন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রের বিদ্যমান অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতি নিতেই সরকার গণভোটের আয়োজন করতে চায়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এতে ‘না’ ভোট প্রদানের সুযোগও রাখা হচ্ছে।
নিজের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, “সংস্কারের প্রশ্নে আমার অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমি যদি সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চাই, তবে গণভোট ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। জনগণের সম্মতি নিয়েই আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে চাই।”
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভার আগে উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রিপোর্টারের নাম 




















