আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো মেধা বা ত্যাগের চেয়ে ব্যবসায়িক পরিচয় ও অর্থবিত্তকেই মনোনয়নের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পেশাদার রাজনীতিবিদদের বদলে ‘অলিগার্ক’ বা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট যদি আবারও সংসদ দখল করে, তবে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য—বৈষম্যহীন সমাজ গঠন—পুরোপুরি ব্যর্থ হতে পারে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, প্রধান দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। বিএনপির ২৯২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭০ জনই ব্যবসায়ী। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪৮ জন চাকরিজীবী (যার মধ্যে ৯২ জন শিক্ষক) হলেও তাদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোটিপতি রয়েছেন। সামগ্রিকভাবে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫০১ জনই কোটিপতি। সম্পদের শীর্ষ তালিকায় থাকা ২০ জনের মধ্যে ১৪ জনই বিএনপির, ৪ জন স্বতন্ত্র এবং বাকিরা অন্যান্য দলের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরা এমপি হলে নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াকালে তারা জনগণের চেয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেন। গত ১৫ বছর আমরা এই অলিগার্কি ও সিন্ডিকেটই দেখেছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, চাকুরিতে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন যে বিপ্লবে রূপ নিয়েছিল, নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটেনি। সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, “গত ১৬ বছরে এই ধনকুবের প্রার্থীরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কী ভূমিকা রেখেছিলেন?” তিনি মনে করেন, টাকার জোরে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের হাতে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু ঘটতে পারে। সম্পদ ও আয়ের তথ্যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, রাজনীতিকে একটি পেশাদার রূপ দিতে হবে এবং ছাত্র-জনতাকে কড়া নজরদারি বা ‘ভিজিল্যান্স’ বজায় রাখতে হবে, যাতে সংসদ আবারও সিন্ডিকেটের দখলে না যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























