গত ১৫ বছরের গুমের ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত গুম কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে গুমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এলিট ফোর্স র্যাবকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই সুপারিশগুলো কার্যকর করা এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কমিশনের তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছে। অনুসন্ধানে গুমের লোমহর্ষক বর্ণনা এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’-এর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি কমিশনের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, কমিশনের এই তথ্যগুলো সুষ্ঠু বিচারের জন্য যথেষ্ট, তবে এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী এই সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, অনেক আগেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি না করে বা বিকল্প কোনো শক্তিশালী বাহিনী না গড়ে হুট করে র্যাব বিলুপ্ত করার বিষয়টি বিতর্কিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুম ঠেকাতে কেবল বাহিনী ভাঙলে চলবে না, বরং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 
























