ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন ধারার রাজনীতির আহ্বান তারেক রহমানের

বাংলাদেশে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টের পরবর্তী বাস্তবতায় দেশ আর কখনোই পুরনো সেই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।

শনিবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫১ সালের জানাজা, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজার মতো ঘটনাগুলো সামনে রাখলে বোঝা যায়, প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু একে কেন্দ্র করে জাতিগত বিভেদ কাম্য নয়। রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা রয়েছে এবং রাষ্ট্রের সঠিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্ভাবনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি দেড় কোটি কৃষকের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ‘প্রিভেনশন মডেল’ চালুর প্রস্তাব দেন। আধুনিক লন্ডন শহরের অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদাহরণ দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, গত ৫৪ বছরেও ঢাকায় একটি কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে ওঠেনি। এছাড়া বুড়িগঙ্গার দূষণ ও পানির সংকট নিয়ে সংসদে এবং সেমিনারে এখনই বিস্তারিত আলোচনার তাগিদ দেন তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি প্রথমে একটি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—সর্বত্র গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে ‘দেশ বাঁচানোর লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বাধারহিত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান রিজার্ভ চুরি রোধে বিশেষ কমিটি এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রস্তাব দেন। দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়াকে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সাম্প্রতিক ‘মব ভায়োলেন্স’ ও সংবাদপত্রের অফিসে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাইলে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন সমালোচনা প্রয়োজন যা সমস্যার সমাধানে পথ দেখাবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

নতুন ধারার রাজনীতির আহ্বান তারেক রহমানের

আপডেট সময় : ০১:০২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই জাতিকে বিভক্ত করার পর্যায়ে না যায়। ৫ আগস্টের পরবর্তী বাস্তবতায় দেশ আর কখনোই পুরনো সেই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।

শনিবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫১ সালের জানাজা, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজার মতো ঘটনাগুলো সামনে রাখলে বোঝা যায়, প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু একে কেন্দ্র করে জাতিগত বিভেদ কাম্য নয়। রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা রয়েছে এবং রাষ্ট্রের সঠিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্ভাবনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি দেড় কোটি কৃষকের জন্য ‘অ্যাগ্রি কার্ড’, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ‘প্রিভেনশন মডেল’ চালুর প্রস্তাব দেন। আধুনিক লন্ডন শহরের অ্যাম্বুলেন্স সেবার উদাহরণ দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, গত ৫৪ বছরেও ঢাকায় একটি কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে ওঠেনি। এছাড়া বুড়িগঙ্গার দূষণ ও পানির সংকট নিয়ে সংসদে এবং সেমিনারে এখনই বিস্তারিত আলোচনার তাগিদ দেন তিনি।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি প্রথমে একটি স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—সর্বত্র গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে ‘দেশ বাঁচানোর লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বাধারহিত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকরা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান রিজার্ভ চুরি রোধে বিশেষ কমিটি এবং পুলিশ বাহিনীকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রস্তাব দেন। দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়াকে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সাম্প্রতিক ‘মব ভায়োলেন্স’ ও সংবাদপত্রের অফিসে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাইলে সাংবাদিকতার স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন সমালোচনা প্রয়োজন যা সমস্যার সমাধানে পথ দেখাবে।