ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

১৯০ আসন অক্ষুণ্ণ রেখে ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার পথে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দীর্ঘ আলোচনা ও দফায় দফায় দর-কষাকষির পর জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন নিশ্চিত রেখে বাকি ১১০টি আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, জামায়াত তাদের নিজস্ব মাঠপর্যায়ের জরিপ ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ১৭০টি আসনে কোনো ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর বাইরে আরও ২০টি আসন তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণাধীন রেখেছে, যেখানে অন্য কোনো দলের চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে তারা মনে করছে। অর্থাৎ, ১৯০টি আসনে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী রেখে বাকি আসনগুলো শরিকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

১১ দলীয় এই জোটের আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সমঝোতায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন আরও কয়েকটি আসনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ জানিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ৩০টি আসন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগে আসন কমার গুঞ্জন ছিল, তবে জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এনসিপি তাদের কাঙ্ক্ষিত ৩০টি আসনেই ছাড় পেতে যাচ্ছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই জোটগতভাবে কতগুলো আসনে তারা লড়ছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শুরুতে ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করেছিল। জামায়াত প্রথমে ১৩টি আসনের প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে ১৫টি আসনে দলটিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ জানিয়েছেন, আগের চেয়ে আসন সংখ্যা বেড়েছে এবং ২০ জানুয়ারির আগেই সব চূড়ান্ত হবে। এছাড়া খেলাফত মজলিসকে সাতটি আসন দেওয়া হতে পারে, যেখানে দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ হবিগঞ্জ-২ এবং মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

অন্যদিকে, এলডিপিকে ৪ থেকে ৭টি এবং এবি পার্টিকে ৩টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ আসনে লড়বেন, যেখানে জামায়াত কোনো প্রার্থী রাখছে না। বিডিপিকে ময়মনসিংহ-৯ ও ভোলা-৩ আসনসহ দুটি আসন দেওয়া হয়েছে। নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপার মতো দলগুলোও দু-একটি আসনে ছাড় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরায় এখন ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের আগে শরিক দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

১৯০ আসন অক্ষুণ্ণ রেখে ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করার পথে জামায়াত

আপডেট সময় : ০১:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন ভাগাভাগির প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দীর্ঘ আলোচনা ও দফায় দফায় দর-কষাকষির পর জামায়াত নিজেদের জন্য ১৯০টি আসন নিশ্চিত রেখে বাকি ১১০টি আসন শরিক দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, জামায়াত তাদের নিজস্ব মাঠপর্যায়ের জরিপ ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ১৭০টি আসনে কোনো ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর বাইরে আরও ২০টি আসন তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণাধীন রেখেছে, যেখানে অন্য কোনো দলের চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে তারা মনে করছে। অর্থাৎ, ১৯০টি আসনে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী রেখে বাকি আসনগুলো শরিকদের দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

১১ দলীয় এই জোটের আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সমঝোতায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৪০টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন আরও কয়েকটি আসনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ জানিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ৩০টি আসন দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও এর আগে আসন কমার গুঞ্জন ছিল, তবে জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এনসিপি তাদের কাঙ্ক্ষিত ৩০টি আসনেই ছাড় পেতে যাচ্ছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যেই জোটগতভাবে কতগুলো আসনে তারা লড়ছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শুরুতে ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করেছিল। জামায়াত প্রথমে ১৩টি আসনের প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে ১৫টি আসনে দলটিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেকটা চূড়ান্ত হয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ জানিয়েছেন, আগের চেয়ে আসন সংখ্যা বেড়েছে এবং ২০ জানুয়ারির আগেই সব চূড়ান্ত হবে। এছাড়া খেলাফত মজলিসকে সাতটি আসন দেওয়া হতে পারে, যেখানে দলটির আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ হবিগঞ্জ-২ এবং মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

অন্যদিকে, এলডিপিকে ৪ থেকে ৭টি এবং এবি পার্টিকে ৩টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ আসনে লড়বেন, যেখানে জামায়াত কোনো প্রার্থী রাখছে না। বিডিপিকে ময়মনসিংহ-৯ ও ভোলা-৩ আসনসহ দুটি আসন দেওয়া হয়েছে। নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপার মতো দলগুলোও দু-একটি আসনে ছাড় পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরায় এখন ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের আগে শরিক দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।