অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মবিশ্বাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও উঠে এসেছে প্রোটিয়ারা। তবে বড় এই সাফল্যের রেশ ধরে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না কোচ শুকরি কনরাড। বরং পরবর্তী এই পরীক্ষার আগে নিজেদের ঘাটতি খুঁজে বের করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলো নিয়েও যথেষ্ট সতর্ক তিনি।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসবে বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে খেলা হলেও টাইগারদের মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ মনে করছেন না কোচ কনরাড। বিশেষ করে হাইভেল্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসাররা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ।
বাংলাদেশের বোলিং শক্তি নিয়ে কনরাডের মূল্যায়ন, ‘বাংলাদেশ এমন কিছু পেসার নিয়ে এখানে আসবে, যারা হাইভেল্ডের উইকেটে বেশ কার্যকর হতে পারে। এটাও ভুলে গেলে চলবে না যে, খুব বেশি দিন আগে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে এসেছে।’
প্রতিপক্ষকে যথাযথ সমীহ করার পাশাপাশি নিজেদের প্রস্তুতিতেও কোনো ঘাটতি রাখতে চান না প্রোটিয়া কোচ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ থেকে পাওয়া ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। কনরাড বলেন, ‘আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এখান থেকে ভালো দিকগুলো গ্রহণ করা, কোথায় আরও উন্নতি করা যায় তা খুঁজে বের করা এবং কয়েক সপ্তাহ পর বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করে রাখা।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের পরও দলের পারফরম্যান্সকে চূড়ান্ত পর্যায়ে দেখছেন না কনরাড। তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দলটির আরও ভালো করার সামর্থ্য রয়েছে। নিজেদের সেরা রূপে পৌঁছাতে এক-দুটি জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রোটিয়া কোচের বক্তব্য, ‘আমার এখনো মনে হয়, এক বা দুটি জায়গায় উন্নতি করলে আমরা নিজেদের সেরা রূপে পৌঁছাতে পারব। কয়েক দিন আগেও ভাবিনি আমরা এখানে দাঁড়িয়ে থাকব, তবে একই সঙ্গে আমি অবাকও নই, কারণ এই দলটির অসাধারণ কিছু করার সামর্থ্য রয়েছে।’
বাংলাদেশ সিরিজ সামনে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ গঠন নিয়েও চলছে নানা ভাবনাচিন্তা। প্রতিটি টেস্টের কন্ডিশন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় উপযুক্ত সমন্বয় খুঁজে বের করতে চান কনরাড। সে কারণে খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এমনকি গত বছর লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ে অবদান রাখা ক্রিকেটারদের নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচকে।
দলের খেলোয়াড় বাছাইয়ের দর্শন বোঝাতে কনরাডের ভাষ্য, ‘আমরা সেরা ১১ জনকে বাসে তুলছি, এখন শুধু তাদের জন্য সঠিক আসনগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন খেলোয়াড়কে অনেক সময় পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।’
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মার্কেস অ্যাকারম্যান ও ম্যাথু ব্রিটজকের মতো নতুন মুখদের সুযোগ দিয়ে নিজেদের বেঞ্চ শক্তি যাচাই করেছেন কনরাড। বিশেষ করে অ্যাকারম্যানের পারফরম্যান্সে তিনি বেশ সন্তুষ্ট।






















