মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:০৩ অপরাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া আনছে ২৬ ইসিবি, বদলে যাচ্ছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা

  • হালনাগাদ সময় : ১০:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)।

দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সেনাবাহিনীর এই প্রকৌশল ইউনিট।

বিশেষ করে রাঙামাটির রাজস্থলী, বিলাইছড়ি ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইসিবি ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি-সাইচল-বড়খলি-থেগামুখ) নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী থেকে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি থেকে যেসামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং অদয়াবাব থেকে থালিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সড়কের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখছে ২৬ ইসিবি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুর্গম এলাকায় তিনটি যাত্রী ছাউনি, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্থানে নয়টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে রোপণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৬৮০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা।

শিক্ষার প্রসারে থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে দুইজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নিয়েছে ২৬ ইসিবি।

অন্যদিকে, বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন ও চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি, শিক্ষার্থীদের জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরিতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

থুমপাড়া এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি খেলার মাঠ। আগে মাঠ না থাকায় স্থানীয় শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে থুমপাড়ার এক ক্যা…

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া আনছে ২৬ ইসিবি, বদলে যাচ্ছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা

হালনাগাদ সময় : ১০:১০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বহুমুখী জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)।

দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সেনাবাহিনীর এই প্রকৌশল ইউনিট।

বিশেষ করে রাঙামাটির রাজস্থলী, বিলাইছড়ি ও আশপাশের দুর্গম এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইসিবি ২০১৬ সালে রাজস্থলী প্রকল্প ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সীমান্ত সড়ক (রাজস্থলী-দুমদুমিয়া-ফারুয়া-বিলাইছড়ি-সাইচল-বড়খলি-থেগামুখ) নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৭৬ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বগাখালী থেকে করল্লাছড়ি পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পর্যায়ে করল্লাছড়ি থেকে যেসামুখ পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এবং অদয়াবাব থেকে থালিপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সড়কের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখছে ২৬ ইসিবি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, দুর্গম এলাকায় তিনটি যাত্রী ছাউনি, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বিভিন্ন স্থানে নয়টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে রোপণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৬৮০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা।

শিক্ষার প্রসারে থুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে দুইজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নিয়েছে ২৬ ইসিবি।

অন্যদিকে, বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন ও চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি, শিক্ষার্থীদের জার্সি ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরিতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

থুমপাড়া এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে নির্মাণ করা হয়েছে একটি খেলার মাঠ। আগে মাঠ না থাকায় স্থানীয় শিশুরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে থুমপাড়ার এক ক্যা…

Share this news as a Photo Card