মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:৫১ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ: নদী ও সাগরে জাল ফেলছেন জেলেরা

  • হালনাগাদ সময় : ১১:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই মেঘনা, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদ-নদীসহ বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলতে দেখা গেছে জেলেদের। তবে সাগরে এখনও বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ বিরাজ করায় মৎস্যজীবীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হয়ে গেলেও আন্দামান সাগরে নতুন লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে ইলিশের পোনা সুরক্ষায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত টানা সাত মাস দেশব্যাপী ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের জাটকা আহরণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে দক্ষিণ উপকূলের ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ১৬ হাজার ১৫৭ দশমিক ২৫ টন চাল দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কেবল বরিশাল অঞ্চলের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬টি পরিবার পেয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯৬৩ টন চাল।

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, দেশের সামগ্রিক ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬৮ শতাংশই আসে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদী থেকে। অভিযান চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দায়ে উপকূলজুড়ে পরিচালিত প্রায় দেড় হাজার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং প্রায় ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি মিটার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ৫৪ টন ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর উৎপাদনে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ২৮৮ টনে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ডিম ছাড়ার পরিমাণ এবং জাটকার উৎপাদনও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

30 October 2026

জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে আসবে না: রাশেদ খাঁন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ: নদী ও সাগরে জাল ফেলছেন জেলেরা

হালনাগাদ সময় : ১১:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে টানা ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই মেঘনা, তেঁতুলিয়া, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদ-নদীসহ বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলতে দেখা গেছে জেলেদের। তবে সাগরে এখনও বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউ বিরাজ করায় মৎস্যজীবীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হয়ে গেলেও আন্দামান সাগরে নতুন লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে ইলিশের পোনা সুরক্ষায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত টানা সাত মাস দেশব্যাপী ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের জাটকা আহরণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে দক্ষিণ উপকূলের ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ১৬ হাজার ১৫৭ দশমিক ২৫ টন চাল দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কেবল বরিশাল অঞ্চলের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬টি পরিবার পেয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৯৬৩ টন চাল।

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, দেশের সামগ্রিক ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬৮ শতাংশই আসে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নদ-নদী থেকে। অভিযান চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার দায়ে উপকূলজুড়ে পরিচালিত প্রায় দেড় হাজার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং প্রায় ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি মিটার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ৫৪ টন ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর উৎপাদনে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ২৮৮ টনে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ডিম ছাড়ার পরিমাণ এবং জাটকার উৎপাদনও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

Share this news as a Photo Card