কৃষির আধুনিকায়ন, বছরজুড়ে পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট সদর আয়োজিত ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র (ট্রাক্টর) ও বিনামূল্যে এলএলপি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের কৃষিকে আরও আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করে তুলতে সরকার কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন, আধুনিক প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন করা গেলে সিলেটের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে সিলেটের শাকসবজি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কোথাও পানির অভাবে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং আরও বেশি জমি চাষাবাদের উপযোগী হয়ে উঠবে। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শারীরিক শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভর্তুকিমূল্যে বিতরণ করা কৃষিযন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি সহায়তায় পাওয়া যন্ত্রপাতি কৃষিকাজেই ব্যবহার করতে হবে। সরকারি ভর্তুকির অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কৃষিযন্ত্রের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে, শ্রমের চাপ হ্রাস পাবে এবং কৃষিকাজ আরও সহজ ও লাভজনক হবে। কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগ ও চাহিদার ভিত্তিতে ভবিষ্যতেও কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুযোগ সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।
সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; কৃষিপণ্যের মান বজায় রাখা, যথাযথ প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এ লক্ষ্যে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেটের কোন অঞ্চলে কোন মৌসুমে কোন ধরনের সবজি ভালো উৎপাদিত হয়, তা চিহ্নিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।


























