মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:৫৮ অপরাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ভুয়া বিল তৈরি করে রেলওয়ের প্রায় ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলায় ১৪ জন

  • হালনাগাদ সময় : ১২:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ বাদী হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি জানানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলার আসামি।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

দুদকের অভিযোগ, পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরে অসংগতি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই করেননি। ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর মালিক নাবিল আহসান সোহাগ আলী নামের এক ব্যক্তিকে চেনেন না এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলেও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় গ্রিডে বিভ্রাট: ঢাকার রামপুরা, গুলশান, মতিঝিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন

27 October 2026

মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ভুয়া বিল তৈরি করে রেলওয়ের প্রায় ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলায় ১৪ জন

হালনাগাদ সময় : ১২:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ বাদী হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি জানানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির কর্মকর্তা মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলার আসামি।

এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

দুদকের অভিযোগ, পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরে অসংগতি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই করেননি। ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর মালিক নাবিল আহসান সোহাগ আলী নামের এক ব্যক্তিকে চেনেন না এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলেও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

Share this news as a Photo Card