মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০৫ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত: প্রশ্ন তাসনিম জারার

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

নিজেদের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের দাবি করলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা মানতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ই নিজ বাসস্থানে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় ডা. তাসনিম জারা এই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পাড়ার মানুষ দাফন-কাফনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে আসে। কোনো বিলম্ব ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করাই আমাদের সামাজিক প্রথা ও ধর্মীয় শিক্ষা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত শনিবার সকালে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ইন্তেকাল করেন। তবে তার মরদেহ নিজ ভিটায় দাফন করতে বাধা দেয় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। তারা মিছিল করার পাশাপাশি মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দাফন পণ্ড করার চেষ্টা চালায়। ফলে সারাদিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় মৃতের স্বজনদের।

ডা. তাসনিম জারা আরো উল্লেখ করেন, স্বজনরা প্রথমে একটি কবর খুঁড়লেও তা ভরাট করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে মৃতের মেয়ে ও বোনেরা নিজেরা নতুন করে কবর খনন করেন। স্থানীয়রা আতঙ্কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। পরবর্তীতে গভীর রাতে পুলিশের প্রহরায় স্বজনদের তোলা সেই কবরেই দাফন সম্পন্ন হয়।

এনসিপির এই সাবেক নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, মৃত মানিক পশারী একজন সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে গার্ড অব অনার ও দাফনে আপত্তি তোলেন। কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতারা দাফন আটকে মাইক হাতে নিজেরাই সেটির সিদ্ধান্ত দিতে চেয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, একজনের মরদেহ উদ্ধার

26 October 2026

সাতক্ষীরায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত: প্রশ্ন তাসনিম জারার

হালনাগাদ সময় : ০১:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজেদের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের দাবি করলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা মানতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ই নিজ বাসস্থানে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় ডা. তাসনিম জারা এই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পাড়ার মানুষ দাফন-কাফনের প্রস্তুতিতে এগিয়ে আসে। কোনো বিলম্ব ছাড়াই দাফন সম্পন্ন করাই আমাদের সামাজিক প্রথা ও ধর্মীয় শিক্ষা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত শনিবার সকালে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ইন্তেকাল করেন। তবে তার মরদেহ নিজ ভিটায় দাফন করতে বাধা দেয় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। তারা মিছিল করার পাশাপাশি মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে দাফন পণ্ড করার চেষ্টা চালায়। ফলে সারাদিন চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় মৃতের স্বজনদের।

ডা. তাসনিম জারা আরো উল্লেখ করেন, স্বজনরা প্রথমে একটি কবর খুঁড়লেও তা ভরাট করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে মৃতের মেয়ে ও বোনেরা নিজেরা নতুন করে কবর খনন করেন। স্থানীয়রা আতঙ্কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার সাহস পাননি। পরবর্তীতে গভীর রাতে পুলিশের প্রহরায় স্বজনদের তোলা সেই কবরেই দাফন সম্পন্ন হয়।

এনসিপির এই সাবেক নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, মৃত মানিক পশারী একজন সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে গার্ড অব অনার ও দাফনে আপত্তি তোলেন। কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি না তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতারা দাফন আটকে মাইক হাতে নিজেরাই সেটির সিদ্ধান্ত দিতে চেয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Share this news as a Photo Card