মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:১২ পূর্বাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ইসলামে হারাম এলাকার পবিত্রতা ও যেসব কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

  • হালনাগাদ সময় : ১২:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ইসলাম ধর্মে ‘হারাম এলাকা’ বলতে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও সুরক্ষিত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানাকে বোঝানো হয়, যেখানে আল্লাহতায়ালা সাধারণ যেকোনো জায়গার তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। পবিত্র মক্কা নগরীর বিখ্যাত মসজিদে হারাম এবং এর চারপাশের নির্ধারিত পরিধি এবং মদিনার বিশেষ স্থান এই হারাম এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এই পবিত্র এলাকাগুলোর সীমানাগুলো সুনির্দিষ্ট পিলার বা চিহ্নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা রয়েছে।

মক্কা ও মদিনা—এই দুই পবিত্র নগরী মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, এই দুই শহরের নির্দিষ্ট হারাম সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের শিকার করা, গাছপালা বা প্রকৃতি নষ্ট করা কিংবা রক্তপাত ঘটানোর বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি সেখানে কোনো হারানো বস্তু কুড়িয়ে পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ শরিয়তসম্মত নির্দেশনা। এসব বিধানের অনেকগুলোই কেবল ইহরাম বাঁধা ছাড়াও সাধারণভাবে প্রযোজ্য। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান হজ, ওমরাহ ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে এই পবিত্র ভূমিগুলোতে যান। তাই সেখানে পৌঁছানোর আগে শরিফাতের এসব মৌলিক বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং তা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই জরুরি।

পবিত্র কোরআনে কারিমে হারামের বিশেষ মর্যাদার কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কাবাঘরকে শান্তির নীড় ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবে উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন, ‘যে এতে প্রবেশ করে, সে সম্পূর্ণ নিরাপদ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)।

অন্য আরেকটি আয়াতে মক্কা নগরীকে একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি হারামকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থান বানিয়েছি, অথচ এর চারপাশ থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়?’ (সুরা আনকাবুত: ৬৭)। এই আয়াতগুলোতে কাবাঘর ও মক্কার বিশেষ সম্মান এবং এর নিরাপত্তার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে হারাম এলাকার ভেতরে ঠিক কোন নির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সে বিষয়ে পবিত্র হাদিস শরিফে আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

যেমন—মক্কার হারাম এলাকার সীমানার ভেতরে যেকোনো ধরনের শিকারযোগ্য বন্যপ্রাণী শিকার করা কিংবা সেগুলোকে তাড়া করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অন্য কাউকে শিকারের কাজে সামান্য সহযোগিতা করাও এই শরিয়তসম্মত বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল হজ বা ওমরাহর সময় ইহরাম পরিহিত ব্যক্তির জন্যই নয়, বরং হারাম এলাকার স্থায়ী বিধান হিসেবে সবার জন্যই প্রযোজ্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, মক্কার হারাম এলাকার শিকার তাড়া করা যাবে না। (সহিহ বোখারি: ১৮৩৪)। ঠিক একইভাবে মদিনার হারাম এলাকার ভেতরেও শিকার ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ কড়াকড়ি রয়েছে এবং সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় এই পবিত্র বিধানগুলো মেনে চলা প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক।

এছাড়া, মক্কার হারাম এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া যেকোনো গাছপালা কাটা, গাছের ডাল ভাঙা কিংবা মাঠের ঘাস উপড়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মানুষের ইহরাম থাকুক বা না থাকুক, সব সময়ই এই বিধান কঠোরভাবে মানতে হবে। অবশ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘ইযখির’ নামক বিশেষ এক ধরনের ঘাস কাটার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই না বুঝে সব ধরনের উদ্ভিদের বিধান একই মনে করা যাবে না।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির বাজারে অরাজকতার মধ্যেই কমিশন দ্বিগুণ করার গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি

26 October 2026

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জিতে চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ইসলামে হারাম এলাকার পবিত্রতা ও যেসব কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

হালনাগাদ সময় : ১২:১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইসলাম ধর্মে ‘হারাম এলাকা’ বলতে একটি অত্যন্ত পবিত্র ও সুরক্ষিত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানাকে বোঝানো হয়, যেখানে আল্লাহতায়ালা সাধারণ যেকোনো জায়গার তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। পবিত্র মক্কা নগরীর বিখ্যাত মসজিদে হারাম এবং এর চারপাশের নির্ধারিত পরিধি এবং মদিনার বিশেষ স্থান এই হারাম এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এই পবিত্র এলাকাগুলোর সীমানাগুলো সুনির্দিষ্ট পিলার বা চিহ্নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা রয়েছে।

মক্কা ও মদিনা—এই দুই পবিত্র নগরী মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, এই দুই শহরের নির্দিষ্ট হারাম সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের শিকার করা, গাছপালা বা প্রকৃতি নষ্ট করা কিংবা রক্তপাত ঘটানোর বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি সেখানে কোনো হারানো বস্তু কুড়িয়ে পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ শরিয়তসম্মত নির্দেশনা। এসব বিধানের অনেকগুলোই কেবল ইহরাম বাঁধা ছাড়াও সাধারণভাবে প্রযোজ্য। প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান হজ, ওমরাহ ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে এই পবিত্র ভূমিগুলোতে যান। তাই সেখানে পৌঁছানোর আগে শরিফাতের এসব মৌলিক বিধান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং তা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই জরুরি।

পবিত্র কোরআনে কারিমে হারামের বিশেষ মর্যাদার কথা অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কাবাঘরকে শান্তির নীড় ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবে উল্লেখ করে এরশাদ করেছেন, ‘যে এতে প্রবেশ করে, সে সম্পূর্ণ নিরাপদ।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)।

অন্য আরেকটি আয়াতে মক্কা নগরীকে একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি হারামকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থান বানিয়েছি, অথচ এর চারপাশ থেকে মানুষকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়?’ (সুরা আনকাবুত: ৬৭)। এই আয়াতগুলোতে কাবাঘর ও মক্কার বিশেষ সম্মান এবং এর নিরাপত্তার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে হারাম এলাকার ভেতরে ঠিক কোন নির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সে বিষয়ে পবিত্র হাদিস শরিফে আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

যেমন—মক্কার হারাম এলাকার সীমানার ভেতরে যেকোনো ধরনের শিকারযোগ্য বন্যপ্রাণী শিকার করা কিংবা সেগুলোকে তাড়া করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অন্য কাউকে শিকারের কাজে সামান্য সহযোগিতা করাও এই শরিয়তসম্মত বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল হজ বা ওমরাহর সময় ইহরাম পরিহিত ব্যক্তির জন্যই নয়, বরং হারাম এলাকার স্থায়ী বিধান হিসেবে সবার জন্যই প্রযোজ্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, মক্কার হারাম এলাকার শিকার তাড়া করা যাবে না। (সহিহ বোখারি: ১৮৩৪)। ঠিক একইভাবে মদিনার হারাম এলাকার ভেতরেও শিকার ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ কড়াকড়ি রয়েছে এবং সেখানে অবস্থানকালে স্থানীয় এই পবিত্র বিধানগুলো মেনে চলা প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক।

এছাড়া, মক্কার হারাম এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া যেকোনো গাছপালা কাটা, গাছের ডাল ভাঙা কিংবা মাঠের ঘাস উপড়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মানুষের ইহরাম থাকুক বা না থাকুক, সব সময়ই এই বিধান কঠোরভাবে মানতে হবে। অবশ্য হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘ইযখির’ নামক বিশেষ এক ধরনের ঘাস কাটার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই না বুঝে সব ধরনের উদ্ভিদের বিধান একই মনে করা যাবে না।

Share this news as a Photo Card