পবিত্র মদিনার মসজিদে নববিতে আসছে ইতিকাফের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়েছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবার মসজিদের ছাদে সাময়িক তাঁবুর ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ইতিকাফের জন্য স্থায়ী কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, মসজিদে নববিতে ইতিকাফ পালনকারীদের সুবিধার্থে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর ইতিকাফের সময় সাময়িক তাঁবু স্থাপন এবং পরবর্তীতে তা আবার সরিয়ে নেওয়ার ঝক্কি পোহাতে হবে না।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে নববিতে ইতিকাফের প্রস্তুতি হিসেবে এই নতুন কাঠামো নির্মাণের মূল লক্ষ্য হলো ঐতিহ্যবাহী ইতিকাফ পালনের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্থায়ী করা।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, মসজিদের একটি বিশেষ অংশের চারপাশে সাদা রঙের অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রাচীর বা প্রতিবন্ধক স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মসজিদের অফিশিয়াল লোগোর পাশাপাশি লেখা রয়েছে, ‘নির্মাণকাজ চলছে, সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।’
এছাড়া নির্মাণ এলাকায় টাওয়ার ক্রেনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ছাদের অংশে একটি স্টিলের কাঠামোর ভেতরে স্যামসাং ব্রান্ডের বহিরাঙ্গনের শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন করা হচ্ছে। পাশেই অন্য শ্রমিকদের ঝালাইয়ের কাজ করতে দেখা গেছে।
ছাদের নিচে খোদাই করা পাথরের নকশার ফাঁক দিয়ে বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য তার সংযোগের কাজও এগিয়ে চলছে। এসব দৃশ্য থেকেই স্পষ্ট যে, ইতিকাফকারীদের জন্য একটি স্থায়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত ব্যাপক কাজ চলছে।
তবে নতুন নির্মিতব্য কক্ষগুলোর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, ধারণক্ষমতা, নির্মাণকাজ শেষের সম্ভাব্য সময় কিংবা কবে নাগাদ এগুলো ইতিকাফকারীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, মসজিদে নববিতে ইতিকাফ করতে ইচ্ছুকদের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আগে থেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। গত রমজানে মসজিদে নববিতে আনুমানিক ৪ হাজার ৭০০ মুসল্লি ইতিকাফ পালন করেছিলেন।
সৌদি আরবের ‘দ্য জেনারেল অথরিটি ফর দ্য প্রফেট’স মস্ক অ্যাফেয়ার্স’ ইতিকাফকারীদের জন্য ইফতার ও সেহরির সুব্যবস্থা করে থাকে। এছাড়া মসজিদে প্রবেশের জন্য বিশেষ ব্রেসলেট, অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং মোবাইল ফোন চার্জিংয়ের সুবিধাও প্রদান করা হয়। পুরুষ ও নারীদের জন্য ইতিকাফের আলাদা সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারিত থাকে।
ইতিকাফের পুরো সময়জুড়ে ইবাদতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্দিষ্ট গেট দিয়ে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে একটি অনুমোদিত নিরাপত্তা বিভাগকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ইসলাম ধর্মে রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সাধারণত রমজানের ২০ তারিখ সূর্যাস্ত বা মাগরিবের পর থেকে শুরু করে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করতে হয়।


























