বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রমণের পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১৯১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগটিতে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রাণ হারানো দুজনই ঝালকাঠি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম রাশিদা বেগম (৬২), যিনি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। অপর মৃত নারী হলেন রেক্সনা (৪৫), যাঁর বাড়ি রাজাপুর উপজেলায়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সফল চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪ হাজার ৯৮৫ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭০০ জন রোগী। আর চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে রোগ প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপর অধিক জোর দিতে হবে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হলে বসতবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশার প্রজনন উপযোগী স্থান বা জমে থাকা পানি যেকোনো মূল্যে এড়িয়ে চলতে হবে এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

























