চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে লাখো আশেক ও ভক্তবৃন্দের ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি এবং বিশেষ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে হযরত গাউসুল আজম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৬৪তম খোশরোজ শরিফ।
বুধবার দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলে বিশ্বশান্তি ও মানবতার কল্যাণে বাবাভাণ্ডারীর জীবনাদর্শ অনুসরণের উদাত্ত আহ্বান জানান তাঁর প্রপৌত্র, মাইজভাণ্ডার গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন এবং আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
মাইজভাণ্ডার রহমানিয়া মইনীয়া দরসে নিজামী মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, সমকালীন বিশ্বে হিংসা-প্রতিহিংসা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, ক্ষমতার লিপ্সা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাত মানবসভ্যতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এহেন পরিস্থিতিতে বাবাভাণ্ডারীর সার্বজনীন প্রেম, শান্তি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও মানবতার আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আরও উল্লেখ করেন, কঠোর আত্মসংযম, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই আধ্যাত্মিকতার চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন বাবাভাণ্ডারী। তাঁর আদর্শ মানুষকে স্রষ্টার প্রতি অনুরাগ, সৃষ্টির সেবা ও বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়। ধর্মীয় সাধনার মূল অর্থই নিহিত রয়েছে মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকা এবং সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্যে।
খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল পবিত্র কোরআনখানি, খতমে গাউছিয়া, মাজার শরিফে গিলাফ চড়ানো, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ছেমা-কাওয়ালী, মিলাদ মাহফিল এবং তবারক বিতরণ। মাহফিলে দেশ-বিদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


























