মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৭:২৬ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম সালাতুত তওবা

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার সময় মানুষের দ্বারা নানা ভুলত্রুটি ও গুনাহ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। প্রবৃত্তির তাড়না কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ অনেক সময় এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা আল্লাহপাক পছন্দ করেন না। তবে প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি কখনো গুনাহ করার পর নিরাশ হয়ে বসে থাকেন না, বরং নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বান্দাকে নিরাশ না হওয়ার সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা জুমার: ৫৩)

কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তার জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া, যাকে পরিভাষায় ‘সালাতুত তওবা’ বলা হয়। এটি পাপী বান্দার জন্য মহান রবের দরবারে ক্ষমা পাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ।

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২১)

সালাতুত তওবা আদায়ের নিয়ম অন্যান্য সাধারণ নফল নামাজের মতোই। এর জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সূরার বাধ্যবাধকতা নেই। অজু সম্পন্ন করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় শেষে কৌতূহলী অন্তরে আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে নিজের ভুল স্বীকার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই পাপে আর লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

একটি গ্রহণযোগ্য তওবার কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন—তাত্ক্ষণিকভাবে গুনাহ ত্যাগ করা, অতীতের ভুলের জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে ওই পাপ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং কারও হক নষ্ট করে থাকলে তা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম সালাতুত তওবা

হালনাগাদ সময় : ১০:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরার সময় মানুষের দ্বারা নানা ভুলত্রুটি ও গুনাহ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। প্রবৃত্তির তাড়না কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ অনেক সময় এমন কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা আল্লাহপাক পছন্দ করেন না। তবে প্রকৃত মুমিন ব্যক্তি কখনো গুনাহ করার পর নিরাশ হয়ে বসে থাকেন না, বরং নিজের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত মহান আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বান্দাকে নিরাশ না হওয়ার সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, ‘বলুন, হে আমার সেই বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা জুমার: ৫৩)

কোনো গুনাহ হয়ে গেলে তার জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া, যাকে পরিভাষায় ‘সালাতুত তওবা’ বলা হয়। এটি পাপী বান্দার জন্য মহান রবের দরবারে ক্ষমা পাওয়ার একটি বিশেষ সুযোগ।

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫২১)

সালাতুত তওবা আদায়ের নিয়ম অন্যান্য সাধারণ নফল নামাজের মতোই। এর জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট সূরার বাধ্যবাধকতা নেই। অজু সম্পন্ন করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় শেষে কৌতূহলী অন্তরে আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে নিজের ভুল স্বীকার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই পাপে আর লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

একটি গ্রহণযোগ্য তওবার কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন—তাত্ক্ষণিকভাবে গুনাহ ত্যাগ করা, অতীতের ভুলের জন্য মনে মনে অনুতপ্ত হওয়া, ভবিষ্যতে ওই পাপ আর না করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং কারও হক নষ্ট করে থাকলে তা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া।

Share this news as a Photo Card