মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:১০ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে উপস্থাপিত, ব্যয় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটির খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮.০৮ কোটি টাকা। ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ বিভাগ উত্থাপন করেছে এবং এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বিপিডিবি’র নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪.৭১ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩.৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্যানেল ক্ষমতা হবে ৪৪২ মেগাওয়াট। সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বুধবার একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করার কথা রয়েছে।

জহুরুল ইসলাম বলেন, রামপাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের এই উদ্যোগ দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। এই প্রকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের এই ঋণে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এছাড়া, ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে ১৬ বছর। পরিকল্পনা কমিশন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশন তার মূল্যায়নে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা অর্জনে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশে ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট অন-গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে, যা এই প্রকল্প আরও বৃদ্ধি করবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

কম্পিউটার হঠাৎ হ্যাং হলে পাওয়ার বাটন নয়: জেনে নিন নিরাপদ রিস্টার্টের সহজ উপায়

29 October 2026

মানবতাবিরোধী অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে উপস্থাপিত, ব্যয় ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা

হালনাগাদ সময় : ০৭:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং কার্বন নির্গমন কমাতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটির খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮.০৮ কোটি টাকা। ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ শীর্ষক প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ বিভাগ উত্থাপন করেছে এবং এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বিপিডিবি’র নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪.৭১ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৩.৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস’কে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্যানেল ক্ষমতা হবে ৪৪২ মেগাওয়াট। সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি বুধবার একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য পেশ করার কথা রয়েছে।

জহুরুল ইসলাম বলেন, রামপাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের এই উদ্যোগ দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। এই প্রকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিলের এই ঋণে বার্ষিক সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এছাড়া, ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে ১৬ বছর। পরিকল্পনা কমিশন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশন তার মূল্যায়নে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি কাঠামোর ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা অর্জনে সহায়তা করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৪৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশে ২৮ হাজার ৮২৭ মেগাওয়াট অন-গ্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে, যা এই প্রকল্প আরও বৃদ্ধি করবে।

Share this news as a Photo Card