মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:০৬ অপরাহ্ন | ২৮শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার, ১২ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

কুলিয়ারচরে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে হুমকির মুখে জননিরাপত্তা

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ মামলার চরম ধীরগতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনমনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণে এই সামাজিক ব্যাধি বর্তমানে চরম রূপ নিয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও আইনি লড়াইয়ের জটিলতায় পড়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমঝোতার চাপ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে—যা কেবল কুলিয়ারচরের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার এক উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় মামলা দায়েরের পর থেকেই তারা প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত হুমকি ও চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েন। অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার অভাবে বহু দরিদ্র পরিবার লড়াইয়ের মাঝপথেই হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এর ওপর পুলিশের তদন্তে গাফিলতি এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। মাঠপর্যায়ের এই বৈরী পরিবেশের ফলে নারীরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার দরুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত তাঁদের জন্য এক আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতি ভুক্তভোগীদের মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মেয়াদে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং কার্যকর কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র যদি এখনই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে কুলিয়ারচরের মতো জনপদগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচ বছর পর আবারও পর্দায় রজনীকান্ত ও নয়নতারা জুটি

28 October 2026

১৮ মাসের মধ্যেই চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা চালু: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

কুলিয়ারচরে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে হুমকির মুখে জননিরাপত্তা

হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ মামলার চরম ধীরগতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনমনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণে এই সামাজিক ব্যাধি বর্তমানে চরম রূপ নিয়েছে। কুলিয়ারচর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও আইনি লড়াইয়ের জটিলতায় পড়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমঝোতার চাপ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে—যা কেবল কুলিয়ারচরের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার এক উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে উন্মোচিত করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় মামলা দায়েরের পর থেকেই তারা প্রভাবশালী মহলের অব্যাহত হুমকি ও চরম মানসিক চাপের মুখে পড়েন। অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার অভাবে বহু দরিদ্র পরিবার লড়াইয়ের মাঝপথেই হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এর ওপর পুলিশের তদন্তে গাফিলতি এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের জন্য এক ধরনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। মাঠপর্যায়ের এই বৈরী পরিবেশের ফলে নারীরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যার দরুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত তাঁদের জন্য এক আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতি ভুক্তভোগীদের মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়সারা ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মেয়াদে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং কার্যকর কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র যদি এখনই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তবে কুলিয়ারচরের মতো জনপদগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Share this news as a Photo Card