মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০১:০৯ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ভেনেজুয়েলার ‘মাদকবাহী’ নৌকায় হামলা আইনসঙ্গত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

  • হালনাগাদ সময় : ১১:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। কথিত মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার তরফ থেকে তদন্তের ঘোষণার পরদিন ওই ঘটনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাফাই গাইলো হোয়াইট হাউজ।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সোমবার (১ ডিসেম্বর) জানানো হয়, সেপ্টেম্বরে ভেনেজুয়েলার ‘মাদক চোরাচালানকারী’ এক নৌকা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার আদেশ দেন অ্যাডমিরাল ফ্র্যাংক ব্র্যাডলি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অনুমোদনেই ওই কাজ করা হয় বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউজ।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলায় নৌকার দু’জন আরোহী বেঁচে যান। এরপর তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দফায় হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এটি করা হয়েছিল হেগসেথের নির্দেশ মেনে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অসক্ষম বা আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা নিষিদ্ধ করে। প্রতিরক্ষা দফতরের ল’ অব ওয়ার ম্যানুয়াল অনুযায়ী, জাহাজডুবি-অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা যায় না; বরং চিকিৎসা সহায়তা দিতে হয়—যদি না তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে বা পালানোর চেষ্টা করে।

অবশ্য রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নৌকার ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চাইতেন না এবং হেগসেথও এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিয়াভিট সোমবার বলেন, হেগসেথ অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্র্যাডলিকে ২ সেপ্টেম্বরের হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলিকে এসব কাইনেটিক স্ট্রাইক পরিচালনার অনুমোদন দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি তার কর্তৃত্ব ও আইনের মধ্যে থেকেই নৌকাটি ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের “আত্মরক্ষা” হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল, এটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে এবং সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আইন অনুযায়ী ছিল।

সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলে মাদকবাহী নৌকা সন্দেহে অন্তত ১৯টি হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত হয়েছে।

সমালোচকেরা এসব হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেরই পার্লামেন্ট সদস্যরা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক লরা ডিকিনসন বলেন, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন এসব হামলার ঘটনা সশস্ত্র সংঘাতের আওতায় পড়ে না। তাই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ কেবলমাত্র চূড়ান্ত বিকল্প হতে পারে।

সাবেক সামরিক আইনজীবীদের একটি দল, ‘জ্যাগস ওয়ার্কিং গ্রুপ’, এই ধরনের আদেশকে “স্পষ্টতই অবৈধ” হিসেবে উল্লেখ করে। তারা বলে, সেনাসদস্যদের এ ধরনের আদেশ অগ্রাহ্য করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং যারা মানবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা উচিত।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ভেনেজুয়েলার ‘মাদকবাহী’ নৌকায় হামলা আইনসঙ্গত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

হালনাগাদ সময় : ১১:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। কথিত মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলার তরফ থেকে তদন্তের ঘোষণার পরদিন ওই ঘটনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাফাই গাইলো হোয়াইট হাউজ।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে সোমবার (১ ডিসেম্বর) জানানো হয়, সেপ্টেম্বরে ভেনেজুয়েলার ‘মাদক চোরাচালানকারী’ এক নৌকা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার আদেশ দেন অ্যাডমিরাল ফ্র্যাংক ব্র্যাডলি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অনুমোদনেই ওই কাজ করা হয় বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউজ।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দফার হামলায় নৌকার দু’জন আরোহী বেঁচে যান। এরপর তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দফায় হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এটি করা হয়েছিল হেগসেথের নির্দেশ মেনে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অসক্ষম বা আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা নিষিদ্ধ করে। প্রতিরক্ষা দফতরের ল’ অব ওয়ার ম্যানুয়াল অনুযায়ী, জাহাজডুবি-অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যা করা যায় না; বরং চিকিৎসা সহায়তা দিতে হয়—যদি না তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে বা পালানোর চেষ্টা করে।

অবশ্য রবিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি নৌকার ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চাইতেন না এবং হেগসেথও এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিয়াভিট সোমবার বলেন, হেগসেথ অ্যাডমিরাল ফ্র্যাঙ্ক ব্র্যাডলিকে ২ সেপ্টেম্বরের হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলিকে এসব কাইনেটিক স্ট্রাইক পরিচালনার অনুমোদন দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি তার কর্তৃত্ব ও আইনের মধ্যে থেকেই নৌকাটি ধ্বংস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি দূর করতে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের “আত্মরক্ষা” হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল, এটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে এবং সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আইন অনুযায়ী ছিল।

সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলে মাদকবাহী নৌকা সন্দেহে অন্তত ১৯টি হামলা চালিয়েছে, যাতে কমপক্ষে ৭৬ জন নিহত হয়েছে।

সমালোচকেরা এসব হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলেরই পার্লামেন্ট সদস্যরা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক লরা ডিকিনসন বলেন, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন এসব হামলার ঘটনা সশস্ত্র সংঘাতের আওতায় পড়ে না। তাই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ কেবলমাত্র চূড়ান্ত বিকল্প হতে পারে।

সাবেক সামরিক আইনজীবীদের একটি দল, ‘জ্যাগস ওয়ার্কিং গ্রুপ’, এই ধরনের আদেশকে “স্পষ্টতই অবৈধ” হিসেবে উল্লেখ করে। তারা বলে, সেনাসদস্যদের এ ধরনের আদেশ অগ্রাহ্য করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং যারা মানবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা উচিত।

সূত্র: রয়টার্স

Share this news as a Photo Card