মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৩:৪২ পূর্বাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৩

  • হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ হয়েছে। শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখনও ১৯১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র বলেছে, বন্যার কারণে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষকে প্রায় ৮০০ ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে। খাদ্য বিতরণ, রাস্তা পরিষ্কার এবং আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার কাজে হাজারো পুলিশ, নৌবাহিনী ও সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন।

রাজধানী কলম্বো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের মালওয়ানায় কেলানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মাল্লিকা কুমারী তাদের ৫৫৪ জন প্রতিবেশীর মতোই এক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছেন। শুক্রবার খুব দ্রুত পানি বাড়তে থাকলে তাদের বাড়ি ছাদ পর্যন্ত ডুবে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীসহ একটি ভাড়া করা লরিতে উঠে পুরো রাত রাস্তার ধারে কাটিয়েছেন কুমারী।

কুমারী বলেছেন, টিভিতে বন্যা সতর্কতা দেখলেও এত দ্রুত নদী উপচে পড়বে বলে তারা ভাবেননি। তিনি বলেন, আমরা ঘর থেকে কিছুই নিতে পারিনি। এখনও নাস্তাও খাইনি। দুই ছেলের ফ্লু হয়েছে, ওদের ওষুধ লাগবে। কাপড় জড়ো করতে আবর্জনার ব্যাগ এনেছি। তাড়াহুড়োয় পোষা বিড়ালটিকে ফেলে যেতে হয়েছিল, পরে নৌবাহিনীর একটি উদ্ধার নৌকা সেটিকে নিয়ে আসে।

উদ্ধারকারী নৌকা কুমারীসহ আটকে পড়া পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় ও সন্তানদের বইপত্র সংগ্রহের সুযোগ করে দিচ্ছে।

কলম্বোর কাছে মালওয়ানা ও অন্যান্য নিচু এলাকায় বেশির ভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে ডুবে আছে, বিদ্যুৎ নেই। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সাপ্তাহিক রবিবার বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আবার পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অনেক বাসিন্দা আংশিক ডুবে যাওয়া বাড়ির ওপরের তলায় অবস্থান করছেন, যেন তাদের মালপত্র রক্ষা করা যায়। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি, সুপারমার্কেট, কাপড়ের দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন দোকানমালিকরা।

ডালুগালা থাকিয়া মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যাদুর্গতদের জন্য ভাত, মুরগি ও ডাল কারির প্যাকেট প্রস্তুত করছেন। রবিবারের মধ্যে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য বিতরণকারীদের একজন রিশাম আহমেদ বলেন, আরও বেশি মানুষ খাবার চাইছে, কারণ যারা দিনমজুরিতে চলেন, তারা কাজ পাচ্ছেন না। সঞ্চয়ও ফুরিয়ে আসছে। মানুষ চিন্তায় আছে, কীভাবে আবার জীবনটাকে গুছিয়ে নেবে।

 

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৯৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের তামাক আটক

29 October 2026

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত: জামিন পেল কিশোর চালক

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৩

হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ কারণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ হয়েছে। শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখনও ১৯১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সারা দেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র বলেছে, বন্যার কারণে ৭৮ হাজারের বেশি মানুষকে প্রায় ৮০০ ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই স্কুলে স্থাপন করা হয়েছে। খাদ্য বিতরণ, রাস্তা পরিষ্কার এবং আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার কাজে হাজারো পুলিশ, নৌবাহিনী ও সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন।

রাজধানী কলম্বো থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের মালওয়ানায় কেলানি নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মাল্লিকা কুমারী তাদের ৫৫৪ জন প্রতিবেশীর মতোই এক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছেন। শুক্রবার খুব দ্রুত পানি বাড়তে থাকলে তাদের বাড়ি ছাদ পর্যন্ত ডুবে যায়। তিন সন্তানকে নিয়ে স্বামীসহ একটি ভাড়া করা লরিতে উঠে পুরো রাত রাস্তার ধারে কাটিয়েছেন কুমারী।

কুমারী বলেছেন, টিভিতে বন্যা সতর্কতা দেখলেও এত দ্রুত নদী উপচে পড়বে বলে তারা ভাবেননি। তিনি বলেন, আমরা ঘর থেকে কিছুই নিতে পারিনি। এখনও নাস্তাও খাইনি। দুই ছেলের ফ্লু হয়েছে, ওদের ওষুধ লাগবে। কাপড় জড়ো করতে আবর্জনার ব্যাগ এনেছি। তাড়াহুড়োয় পোষা বিড়ালটিকে ফেলে যেতে হয়েছিল, পরে নৌবাহিনীর একটি উদ্ধার নৌকা সেটিকে নিয়ে আসে।

উদ্ধারকারী নৌকা কুমারীসহ আটকে পড়া পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় ও সন্তানদের বইপত্র সংগ্রহের সুযোগ করে দিচ্ছে।

কলম্বোর কাছে মালওয়ানা ও অন্যান্য নিচু এলাকায় বেশির ভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে ডুবে আছে, বিদ্যুৎ নেই। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সাপ্তাহিক রবিবার বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আবার পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অনেক বাসিন্দা আংশিক ডুবে যাওয়া বাড়ির ওপরের তলায় অবস্থান করছেন, যেন তাদের মালপত্র রক্ষা করা যায়। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি, সুপারমার্কেট, কাপড়ের দোকান পানিতে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় উদ্বিগ্ন দোকানমালিকরা।

ডালুগালা থাকিয়া মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যাদুর্গতদের জন্য ভাত, মুরগি ও ডাল কারির প্যাকেট প্রস্তুত করছেন। রবিবারের মধ্যে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য বিতরণকারীদের একজন রিশাম আহমেদ বলেন, আরও বেশি মানুষ খাবার চাইছে, কারণ যারা দিনমজুরিতে চলেন, তারা কাজ পাচ্ছেন না। সঞ্চয়ও ফুরিয়ে আসছে। মানুষ চিন্তায় আছে, কীভাবে আবার জীবনটাকে গুছিয়ে নেবে।

 

Share this news as a Photo Card