মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০৮ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

সঞ্চয়পত্রে ফিরছেন বিনিয়োগকারীরা: ছয় মাসে সরকারের নিট ঋণ ছাড়াল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

  • হালনাগাদ সময় : ১০:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম উৎস সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার নিট ঋণ সংগ্রহ করেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; তখন নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ, সে সময় সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে মেয়াদ পূর্তিতে গ্রাহকদের মূল ও মুনাফা পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছিল।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের ঝোঁক ছিল এই খাতের দিকে। তবে সরকারের ঋণের বোঝা কমাতে কয়েক দফায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়। একই সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তি খাতের বড় বিনিয়োগগুলো সেখানে চলে যায়। ফলে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে এক ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক চিত্রটি ভিন্ন। বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কিছুটা নিম্নমুখী হতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীরা পুনরায় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন। মূলত নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত মুনাফার প্রত্যাশায় সাধারণ সঞ্চয়কারীরা এই খাতকে বেছে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে মেয়াদ শেষ হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফা পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই নিট ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অর্থ সরকার মূলত বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যয় করে থাকে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে বছর শেষে বিনিয়োগের চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় নিট ঋণ শেষ পর্যন্ত ঋণাত্মক অবস্থানে ছিল। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই অপতথ্য প্রতিরোধ সম্ভব: ডা. জাহেদ উর রহমান

29 October 2026

পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ৫০০ পিস ভারতীয় মাদক উদ্ধার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

সঞ্চয়পত্রে ফিরছেন বিনিয়োগকারীরা: ছয় মাসে সরকারের নিট ঋণ ছাড়াল ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

হালনাগাদ সময় : ১০:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের অন্যতম উৎস সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার নিট ঋণ সংগ্রহ করেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন; তখন নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা ঋণাত্মক। অর্থাৎ, সে সময় সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে মেয়াদ পূর্তিতে গ্রাহকদের মূল ও মুনাফা পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছিল।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের ঝোঁক ছিল এই খাতের দিকে। তবে সরকারের ঋণের বোঝা কমাতে কয়েক দফায় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়। একই সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তি খাতের বড় বিনিয়োগগুলো সেখানে চলে যায়। ফলে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে এক ধরনের মন্দাভাব দেখা দিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক চিত্রটি ভিন্ন। বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার কিছুটা নিম্নমুখী হতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীরা পুনরায় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন। মূলত নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত মুনাফার প্রত্যাশায় সাধারণ সঞ্চয়কারীরা এই খাতকে বেছে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে মেয়াদ শেষ হওয়া সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফা পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই নিট ঋণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই অর্থ সরকার মূলত বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যয় করে থাকে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে বছর শেষে বিনিয়োগের চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় নিট ঋণ শেষ পর্যন্ত ঋণাত্মক অবস্থানে ছিল। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের বিক্রির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card