শিশুদের যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, আজকের নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র, দক্ষ প্রশাসক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক গড়ে উঠবে। তাই শৈশব থেকেই তাদের মনে সুশিক্ষা, উন্নত নৈতিক মূল্যবোধ ও গভীর দেশপ্রেমের ভিত তৈরি করতে হবে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে আব্দুস সালাম জানান, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়কালেই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে বর্তমান জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সংগঠনটির স্থায়ী ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা আইনি বাধা থাকলে তা নিরসনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজের পতাকার মান ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন প্রজন্মের ওপর। আগামী দিনে তোমরাই দেশের হাল ধরবে। এজন্য পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে হবে এবং মিথ্যা ও অপরাধমূলক পথ পরিহার করে নৈতিক জীবন গড়তে হবে।
এ সময় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও নগর পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সুস্থ থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মানতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি, ছাদ ও ফুলের টবে যেন পানি না জমে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
সাংবাদিক সন্তানদের উদ্দেশে আব্দুস সালাম আরও বলেন, সমাজের বাস্তব চিত্র ও সত্য উদঘাটনে তাদের অভিভাবকেরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। তাই বাবা-মায়ের মহৎ পেশাকে সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য গর্ববোধ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, সদস্যদের সন্তানদের প্রতিভা ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন। ভবিষ্যতে এ আয়োজন তিন দিনব্যাপী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি ডিআরইউর অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে প্রশাসকের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতা। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।
























