মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৮:৪২ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রমজানের আগেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার: অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতা

  • হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরিতে অধিক ব্যবহৃত পণ্যগুলোর দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন এবং যথাযথ বাজার তদারকির অভাবে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যকেও দায়ী করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বন্দর সমস্যার কথা বললেও, সাধারণ মানুষ একে কৃত্রিম সংকট হিসেবেই দেখছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছর যে জাহিদি খেজুর ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ২৮০ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া কাঁচামরিচ, কলা, শসা ও লেবুর দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকার কলার হালি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মানভেদে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়।

ফলের বাজারেও একই চিত্র। আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুর ও আনারের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে বর্তমানে আপেল ২৬০-৪৫০ টাকা, কমলা ৩০০-৩৮০ টাকা এবং আঙুর ৫২০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় ছোলা, চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩৮ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ হাজার টনেরও বেশি। পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও বাজারে খেজুরের দাম কেন চড়া, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে সাধারণ মানের জাহিদি খেজুর ২৮০ টাকা হলেও উন্নত মানের মাবরুম, মরিয়ম বা মেডজুল খেজুরের দাম কেজি প্রতি ৮৫০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রমজানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ চেইনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে, প্যানিক বায়িং বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না করতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রমজানের আগেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার: অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতা

হালনাগাদ সময় : ০৮:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরিতে অধিক ব্যবহৃত পণ্যগুলোর দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন এবং যথাযথ বাজার তদারকির অভাবে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যকেও দায়ী করছেন সাধারণ ভোক্তারা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে যথাযথ নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বন্দর সমস্যার কথা বললেও, সাধারণ মানুষ একে কৃত্রিম সংকট হিসেবেই দেখছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খেজুরের দাম। গত বছর যে জাহিদি খেজুর ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ২৮০ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া কাঁচামরিচ, কলা, শসা ও লেবুর দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকার কলার হালি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মানভেদে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়।

ফলের বাজারেও একই চিত্র। আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙুর ও আনারের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে বর্তমানে আপেল ২৬০-৪৫০ টাকা, কমলা ৩০০-৩৮০ টাকা এবং আঙুর ৫২০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছরের তুলনায় ছোলা, চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩৮ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ হাজার টনেরও বেশি। পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও বাজারে খেজুরের দাম কেন চড়া, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে সাধারণ মানের জাহিদি খেজুর ২৮০ টাকা হলেও উন্নত মানের মাবরুম, মরিয়ম বা মেডজুল খেজুরের দাম কেজি প্রতি ৮৫০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রমজানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ চেইনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে, প্যানিক বায়িং বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না করতে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card