মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৪:০৮ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বিনিয়োগ মন্দার প্রভাব: বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ কমেছে ৭৫ শতাংশ

  • হালনাগাদ সময় : ১০:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে বিরাজমান স্থবিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণেও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে বিদেশি ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে মাত্র ৪৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ অনুমোদিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মোট ৪৩টি আবেদনের বিপরীতে এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ এর আগের অর্থবছরে ৭৬টি আবেদনের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি। কয়েক বছর আগেও যেখানে বার্ষিক বৈদেশিক ঋণের চাহিদা ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলারের ঘরে থাকত, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারাবাহিক পতন অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিডার কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগ খরাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, দেশে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির হারও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চাহিদা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক ঋণের ওপর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধিও বর্তমানে গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যার হার মাত্র ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সংকোচন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থর গতির কারণে উদ্যোক্তারা নতুন করে বিদেশি ঋণ নিতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে এবং একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বিদেশি ঋণের চাহিদাও বাড়িয়ে দেবে।

সাধারণত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি বা ঋণপত্র খুলতে ডলারের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্থানীয় ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত ডলার জোগান দিতে না পারলে ব্যবসায়ীরা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এছাড়া সুদের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমাতেও অনেকে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডলারে ঋণ নিয়ে যদি সেই অর্থ দিয়ে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে টাকায় আয় করা হয়, তবে কিস্তি পরিশোধের সময় রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। তাই বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

অবশ্য ঋণ অনুমোদনের এই বিশাল ব্যবধানের পেছনে নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে বলে বিডা সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে বিনিয়োগ সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদের ঋণের জন্য কোম্পানিগুলোকে এখন আর বিডার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। বর্তমানে বিডার পরিসংখ্যানে কেবল তিন বছরের বেশি মেয়াদী ঋণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনুমোদনের সংখ্যায় এই বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই অপতথ্য প্রতিরোধ সম্ভব: ডা. জাহেদ উর রহমান

29 October 2026

পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযান: ৫০০ পিস ভারতীয় মাদক উদ্ধার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বিনিয়োগ মন্দার প্রভাব: বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ কমেছে ৭৫ শতাংশ

হালনাগাদ সময় : ১০:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে বিরাজমান স্থবিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণেও। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাতে বিদেশি ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে মাত্র ৪৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের বৈদেশিক ঋণ অনুমোদিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরে মোট ৪৩টি আবেদনের বিপরীতে এই ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ এর আগের অর্থবছরে ৭৬টি আবেদনের বিপরীতে অনুমোদিত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের বেশি। কয়েক বছর আগেও যেখানে বার্ষিক বৈদেশিক ঋণের চাহিদা ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি ডলারের ঘরে থাকত, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারাবাহিক পতন অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিডার কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগ খরাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, দেশে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির হারও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চাহিদা কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক ঋণের ওপর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধিও বর্তমানে গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যার হার মাত্র ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সংকোচন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থর গতির কারণে উদ্যোক্তারা নতুন করে বিদেশি ঋণ নিতে উৎসাহিত হচ্ছেন না। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে এবং একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বিদেশি ঋণের চাহিদাও বাড়িয়ে দেবে।

সাধারণত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি বা ঋণপত্র খুলতে ডলারের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্থানীয় ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত ডলার জোগান দিতে না পারলে ব্যবসায়ীরা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এছাড়া সুদের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমাতেও অনেকে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডলারে ঋণ নিয়ে যদি সেই অর্থ দিয়ে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে টাকায় আয় করা হয়, তবে কিস্তি পরিশোধের সময় রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। তাই বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

অবশ্য ঋণ অনুমোদনের এই বিশাল ব্যবধানের পেছনে নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে বলে বিডা সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে বিনিয়োগ সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদের ঋণের জন্য কোম্পানিগুলোকে এখন আর বিডার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না; তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। বর্তমানে বিডার পরিসংখ্যানে কেবল তিন বছরের বেশি মেয়াদী ঋণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় অনুমোদনের সংখ্যায় এই বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

Share this news as a Photo Card