মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২১ অপরাহ্ন | ২৬শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার, ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বর্ষার রূপে মোহময় সীতাকুণ্ড, ভিড় বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের

  • হালনাগাদ সময় : ০২:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বর্ষার টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি ঝরনাগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পাহাড়ের বুক চিরে গর্জন তুলে নেমে আসা ফেনিল জলধারা, ঘন সবুজ অরণ্য, মেঘে মোড়ানো পাহাড় আর শীতল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। সহস্রধারা থেকে রূপসী, নাপিত্তাছড়া হয়ে খৈয়াছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ঝরনাপথ এখন বর্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ট্র্যাকিং ও প্রকৃতি ভ্রমণের কেন্দ্র। বর্ষা শুরু হলেই এখানকার ঝরনাগুলো ফিরে পায় তাদের পূর্ণ রূপ। পাহাড়ি পাথরের গা বেয়ে ধাপে ধাপে নেমে আসা জলধারা, সবুজ বনভূমির নৈসর্গিক পরিবেশ এবং দুর্গম ট্রেইলের রোমাঞ্চ প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণকারীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে বড়তাকিয়ার পূর্ব পাশে অবস্থিত ৯ ধাপের খৈয়াছড়া ঝরনায়। পাশাপাশি ছোট দারোগারহাটের পূর্বে সহস্রধারা-২, বড় দারোগারহাটের উত্তর-পূর্বে রূপসী ঝরনা, হাদি ফকিরহাটের পূর্বে নাপিত্তাছড়া, সুপ্তধারা, কমলদহ, ছাগলকান্দা, কুপিকাটা খুম ও মিটছড়ির দুর্গম ট্রেইলেও প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। ঝরনার প্রবেশপথ ও ট্রেইলসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, খাবারের স্টল ও পর্যটকসেবা কেন্দ্র। স্থানীয় তরুণরা বাঁশের লাঠি, রেইনকোট ও ট্র্যাকিং সরঞ্জাম ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি গাইড, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও লকার সেবার মাধ্যমে আয় করছেন। এছাড়া পাহাড়ি আনারস, ডাব, লটকন, পেঁপে ও বাঁশকোড়ল বিক্রি করেও অনেক পরিবারের জীবিকায় এসেছে স্বস্তি।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় গাইড, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আশপাশের বাসিন্দারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ঝরনাকেন্দ্রিক পর্যটন ইতোমধ্যে অনেক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং ইজারাদার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সচেতন থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

26 October 2026

বিরোধী দলে থাকতেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত: প্রশ্ন তাসনিম জারার

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বর্ষার রূপে মোহময় সীতাকুণ্ড, ভিড় বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের

হালনাগাদ সময় : ০২:২৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষার টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি ঝরনাগুলো যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। পাহাড়ের বুক চিরে গর্জন তুলে নেমে আসা ফেনিল জলধারা, ঘন সবুজ অরণ্য, মেঘে মোড়ানো পাহাড় আর শীতল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। সহস্রধারা থেকে রূপসী, নাপিত্তাছড়া হয়ে খৈয়াছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ঝরনাপথ এখন বর্ষার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ট্র্যাকিং ও প্রকৃতি ভ্রমণের কেন্দ্র। বর্ষা শুরু হলেই এখানকার ঝরনাগুলো ফিরে পায় তাদের পূর্ণ রূপ। পাহাড়ি পাথরের গা বেয়ে ধাপে ধাপে নেমে আসা জলধারা, সবুজ বনভূমির নৈসর্গিক পরিবেশ এবং দুর্গম ট্রেইলের রোমাঞ্চ প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণকারীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে বড়তাকিয়ার পূর্ব পাশে অবস্থিত ৯ ধাপের খৈয়াছড়া ঝরনায়। পাশাপাশি ছোট দারোগারহাটের পূর্বে সহস্রধারা-২, বড় দারোগারহাটের উত্তর-পূর্বে রূপসী ঝরনা, হাদি ফকিরহাটের পূর্বে নাপিত্তাছড়া, সুপ্তধারা, কমলদহ, ছাগলকান্দা, কুপিকাটা খুম ও মিটছড়ির দুর্গম ট্রেইলেও প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। ঝরনার প্রবেশপথ ও ট্রেইলসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, খাবারের স্টল ও পর্যটকসেবা কেন্দ্র। স্থানীয় তরুণরা বাঁশের লাঠি, রেইনকোট ও ট্র্যাকিং সরঞ্জাম ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি গাইড, পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ ও লকার সেবার মাধ্যমে আয় করছেন। এছাড়া পাহাড়ি আনারস, ডাব, লটকন, পেঁপে ও বাঁশকোড়ল বিক্রি করেও অনেক পরিবারের জীবিকায় এসেছে স্বস্তি।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্থানীয় গাইড, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আশপাশের বাসিন্দারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ঝরনাকেন্দ্রিক পর্যটন ইতোমধ্যে অনেক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ এবং ইজারাদার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যটকদের সচেতন থাকতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card